নাইমুর রহমান

নাটোর প্রতিনিধি

শিক্ষক মওলার গবেষণায় ফল চাষে নতুন মাত্রা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:১৭:০৭

ছবি: প্রতিনিধি

বিষমুক্ত বারোমাসি আম ও পেয়ারা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার সৌখিন চাষী গোলাম মওলা। শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ফল চাষ করে রীতিমতো কোটিপতি বনেছেন তিনি। ফল বাগান করেও থেমে থাকেননি তিনি। নতুন নতুন জাত তৈরির জন্য গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

গোলাম মওলা তার ফল বাগানকেই গবেষণাগার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার উদ্ভাবনী বারোমাসি পেয়ারা, কুল ও বাতাবি লেবুর (জাম্বুরা) জাত সফলতা পেয়েছেন। কিন্তু কৃষি গবেষণাগারের অনুমতি না পাওয়ায় এখনও তার উদ্ভাবিত জাতের নামকরণ করতে পারেননি। তবে তার উদ্ভাবিত জাতের পেয়ারার নাম দিয়েছেন বাংলা পেয়ারা।

তার উদ্ভাবিত বারোমাসি পেয়ারা, কুল এবং বাতাবি লেবু চাষ করে ভাল ফলন পাওয়ায় এলাকার চাষীরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তারা গোলাম মওলার উদ্ভাবিত বারোমাসি পেয়ারা ও বাতাবী লেবুর চারা নিয়ে গিয়ে ফলের বাগান করে সুফলও পেয়েছেন। এছাড়া বিষমুক্ত হওয়ায় তার বাগানের পেয়ারা ও বাতাবি লেবুসহ সব ফলের কদরও বেশি।

বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর এলাকার মৃত মুসলেম উদ্দিনের ছেলে ও নাটোর মহিলা কলেজের কৃষি শিক্ষক কৃষিবিদ গোলাম মওলা বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ শেষে প্রায় সখের বশে ২০০৪ সালের দিকে ২ হেক্টর জমিতে ফলের বাগান করেন। শুরুতেই তিনি ঔষধী গাছের বাগান করেন। এরপর কুল চাষ করেন। এ সময় তিনি গবেষণা করে র্আলী (আগাম) ভ্যারাইটি জাতের টক-মিষ্টি কুল উদ্ভাবন করেন।

পরবর্তীতে আম, জাম, জামরুল, পেয়ারা, লিচু, কলা, কুল, ড্রাগন, অগ্নিশ্বর চাপা কলা, পারসিমন, বারোমাসি কদবেলসহ সব ধরনের ফল বাগান করেন। বর্তমানে ২১ হেক্টর জমিতে ফল বাগান করেছেন। তার উদ্ভাবিত বাংলা পেয়ারা গাছ লম্বায় অনেক বড় হয়। ফলও বড় হয়। এর একেকটির সর্বোচ্চ ওজন হয় ১৪ শ গ্রাম এবং ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী একটি গাছ থেকে বছরে ১০ থেকে ১৫ মণ পেয়ারা পাওয়া যায়। তার উদ্ভাবিত বাংলা পেয়ারার চারার চাহিদাও বেশি। প্রতিটি চারা ৫০ টাকা দামে বিক্রি করেন। তার উদ্ভাবিত বাতাবি লেবু খুবই মিষ্টি এবং আকারে বড় হয়। বারোমাসি আমের মধ্যে আগাম জাতের আম সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে পাওয়া যায়।

এছাড়া তার উদ্ভাবিত আগাম জাতের কাঁচা মিঠা আম এপ্রিল মাসে পাওয়া যায়। সব ধরনের আম সাধারণত জুলাই মাসে উৎপন্ন হলেও তার বাগানে যে সব জাতের আম রয়েছে তা প্রায় সারা বছর ধরে। এসব আমের মধ্যে রয়েছে বারি-১১, সুইট কাটিমন, চোক আনান, শাহপুরী, গোরমতি, মধুমতি, বান্দিগৌরি, নাক ফজলি, প্রভৃতি।

এদের মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে আনা সুইট কাটিমন ও চোকআনান আম বছরে তিনবার পাওয়া যায়। ৫টি আমের ওজন এক কেজি হয়। একশ’টির বেশি বিভিন্ন জাতের বারোমাসি আম গাছ তার বাগানে আছে।

তিনি আরও বলেন, শরীফার ৫টি জাত নিয়ে কাজ করছেন। পারসিমন ও লংগানের চাষ করেছেন তার বাগানে। থাইল্যান্ডের রাম্বুতান চাষ করার পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা করছেন। যেহেতু রাম্বুতান শীত সহ্য করতে পারেনা তাই গবেষণা করছি কিভাবে চাষ করা যায়। ইতিমধ্যে বেশ কিছু চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হচ্ছে। তার বাগানে সব ধরনের ফল ছাড়া মিষ্টি কচু, কাটা বিহীন গোলাপ ফুল, খাটো জাতের সিয়াম গ্রীন ও সিয়াম ব্লু নামের নারিকেলের ৫৮টি গাছ আছে। তার এই বাগানটিতে তিনি ফল চাষের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি জাতের বিভিন্ন ফল নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ফল চাষ করে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া তার বাগানে এলাকার অন্তত ৩০ জনের কর্ম সংস্থান হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষিবিদ গোলাম মওলার বাগানে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ফল রয়েছে। তিনি প্রায় এই বাগান পরিদর্শন করেন এবং নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব্য সার প্রয়োগের কারনে বিষমুক্ত ফল পাওয়ার নিশ্চিয়তা রয়েছে এখানে। এজন্য এলাকায় এই বাগানের ফলের চাহিদা বেশি।

স্থানীয় কৃষক মাহতাব আলী ও সমশের আলী বলেন, এখানে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ফল ও ফলের চারা পাওয়া যায়। এখানকার বারোমাসি বাংলা পেয়ারার ফলন বেশি। তাই তারা এই চারা নিয়ে গিয়ে রোপণ করেছেন। এছাড়া বারোমাসি আম, বাতাবি লেবু ও কুল গাছের চারার কদরও বেশি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে এখান থেকে ফল ও চারা নিয়ে যায়।

বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোমরেজ আলী বলেন, কৃষিবিদ গোলাম মওলার বাগানে বারোমাসি আম, পোয়ারা, সিডলেস লেবু ও ড্রাগণসহ দেশি ও বিদেশি অনেক নতুন নতুন ফলের গাছ রয়েছে। তার বাগানে অর্গানিক ফার্টিলাইজার ব্যবহার করে। যার কারনে তার বাগান থেকে বিষমুক্ত ফল পাওয়া যায়। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাসহ অনেকেই বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: