সম্পাদনা: খায়রুল ইসলাম রাজিব

ডেস্ক এডিটর

উলঙ্গ থাকার বিধান কী?

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১৬:১৫

বাড়িতে নিজ রুমে অধিক গরমে কিংবা গোসলখানায় উলঙ্গ কিংবা শর্ট প্যান্ট পড়া যাবে কিনা। তা অনেকেরই অজানা। তাতে ফরজ তরক হবে কিনা কিংবা এর জন্য কোনো গোনাহ হবে কিনা। ইসলামে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।

তা নিজ কক্ষে হোক কিংবা জনসমক্ষে হোক। তবে একান্তে নিজ কক্ষে উলঙ্গ থাকলে কিংবা শর্ট প্যান্ট পরলে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি না থাকলে তা ফরজ তরকের আওতায় পড়বে না। আর এর জন্য গোনাহও হবে না।

যখনই দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে আপনি শর্ট প্যান্ট পরিধান করবেন, তাতে ফরজ তরক হবে। আর তখনই ফরজ তরকের গোনাহ সংঘটিত হবে। আর তাহলো কবিরা (বড়) গোনাহ।

উলঙ্গ হয়ে থাকা কিংবা শর্ট প্যান্ট পড়া নগ্নতার শামিল। তাই হাদিস নির্দেশিত অবস্থা ব্যতিত উলঙ্গ থাকা কিংবা শর্ট প্যান্ট পড়া ঠিক নয়। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নগ্নতা থেকে বেঁচে থাক। কেননা তোমাদের সঙ্গে এমন সঙ্গী (কিরামান-কাতিবীন তথা দুই সম্মানিত লেখক) রয়েছেন, যারা পেশাব-পায়খানা ও সহবাসের সময় ছাড়া আলাদা হন না। সুতরাং তোমরা তাদের লজ্জা কর এবং সম্মান কর।’ (তিরমিজি)

অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শালিনতা বজায় রাখতে নসিহত পেশ করেছেন-

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনে, নিশ্চয় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা যেন ইজার (লুঙ্গি) পরিধান করা ছাড়া গোসলখানায় প্রবেশ না করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন গোসলখানায় তার স্ত্রীকে প্রবেশ না করায়।’ (তিরমিজি)

উলঙ্গপনা ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক ঘোষণা করেছেন। নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করার জোর তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত বাহাজ ইবনে হাকিম রহমাতুল্লাহি তার বাবা ও দাদার (মুয়াবিয়া) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম , হে আল্লাহর রাসুল আমাদের লজ্জাস্থান কতটুকু ঢেকে রাখব এবং কতটুকু খোলা রাখতে পারব?

তিনি বললেন, তোমার স্ত্রী ও দাসী ছাড়া সকলের দৃষ্টি থেকে তোমার লজ্জাস্থান হেফাজত করবে।

তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, পুরুষেরা একত্রে অবস্থানরত থাকলে?

তিনি বললেন, যতদূর সম্ভব কেউ যেন আভরণীয় স্থান দেখতে না পারে তুমি তাই কর।

আমি আবার প্রশ্ন করলাম , মানুষ তো কখনো নির্জন (একাকি) অবস্থায়ও থাকে।

তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তো লজ্জার ক্ষেত্রে বেশি হাক্বদার। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

তাছাড়া হাদিসের বিভিণ্ন বর্ণনায় লজ্জাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। তাই একাকি নির্জনে হোক কিংবা গোসলখানায় হোক উলঙ্গ থাকা কিংবা শর্ট প্যান্ট পরিধান ঠিক নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে একাকি হোক কিংবা গোসলখানায় হোক উলঙ্গ হওয়া কিংবা শর্ট প্যান্ট পড়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। প্রিয়নবির হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: