প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

৫ শর্তে নির্বাচনে যাবে ঐক্যফ্রন্ট

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:০৮:০০

ছবি : ফাইল ফটো

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শর্ত সাপেক্ষে অংশ নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

আজ রবিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

ঐক্যফ্রন্টের একটি সূত্রে জানা গেছে, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল নির্বাচনে যাবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল শনিবার রাতের বৈঠকে এ বিষয়ে সবাই একমত হন।

ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- আজ রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি জানাবেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি দেবেন।

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় এক বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে অগ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচনের আভাস পেলে আমরা সেখানে যাব না। তখন নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবার সরকারকে ওয়াকওভার দেবে না বিরোধী জোট। নির্বাচন করার ন্যূনতম পরিবেশ সৃষ্টি হলেই নির্বাচনে যাবে। সে জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বেশ কয়েকটি শর্ত দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

শর্তগুলোর হলো-

১. প্রথমটি হচ্ছে- নির্বাচনে সব দলের জন্য সমতল ক্রীড়াভূমি (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) সৃষ্টি করা।

২. দ্বিতীয়টি হচ্ছে- বিএনপি ও ২০-দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি।

৩. তৃতীয়টি হচ্ছে- তফসিল পিছিয়ে দেয়া।

৪. চতুর্থটি হচ্ছে- মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায় নতুন করে গ্রেফতার বন্ধ করা।

৫. পঞ্চমটি হচ্ছে- সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেয়া। এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে- একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ১০ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে তাদের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত শনিবার বিকাল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এরপরই বসেন ২০-দলীয় জোটের শরিকরা। এসব বৈঠকে নেতারা নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। সর্বশেষ রাতে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বসেন। সেখানে দিনব্যাপী যে মতামত পাওয়া গেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট বেঁধে অংশ নেয়ার তথ্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে আজই চিঠি দেবে বিএনপি ও জোটের নিবন্ধিত শরিক দলগুলো। চিঠির সঙ্গে তফসিল পেছানোর আবেদন জমা দেয়া হবে। এ ছাড়া আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বসতে চান। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ জন্য সময় চাওয়া হতে পারে।

আজ সংবাদ সম্মেলনের আগে সকাল ১০টায় ড. কামাল হোসেনের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বসার কথা রয়েছে। সেখানেই সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হবে তা ঠিক করা হবে।

এরপর সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জাতির কাছে স্পষ্ট করবেন তারা। রাতে জোটের একাধিক নেতা বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোট যাবে কিনা এ ব্যাপারে আগামী দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২৩ দলের বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জোটের প্রধান দল বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে আগামী দুই দিনের মধ্যে।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: