মোঃ সাইফুল ইসলাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

একাদশ সংসদ নির্বাচন

চূড়ান্ত প্রার্থীর আগে আসন ভাগাভাগি চায় জোটের শরিকরা

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:২০:০০

ছবি : ইন্টারনেট থেকে

আর মাত্র মাস দেড়েক পরই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির আদলে থাকা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়া ঘোষণা দিয়েছেন। চলছে মনোনয়ন ফর্ম বেচা-কেনা। রাজনৈতিক প্রেমীরা নিচ্ছে তার পছন্দের দলের মনোনয়ন। এই মধ্যে ক্ষমতাসীনরা নৌকা প্রতীক মনোনয়ন ফর্ম বিক্রির কাজটি সর্ম্পূণ করেছে। নির্বাচনের প্রধান হাতিয়ার মনোনয়ন হলে হাতে গুনা তিন-চার প্রতীকে আদলেই নির্বাচন করবে বেশ কয়েকটি জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দল।

তবে এখনও আসন নিয়ে ভাগভাটোয়া হয়নি প্রতীক দলগুলোর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক শরিক দলের। তা নিয়ে এখনও টেনশনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা।

নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক ও জাতীয় পাটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চাওয়া পাওয়া আগামী দুই তিন দিনেই মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট শরিকদের নিয়ে আলোচনা হবে এ সমযের মধ্যে। কারা কয়টি নিবে বা দিবে তা সমঝোতার ভিত্তিতেই আসন ভাগাভাগি করা হবে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিবে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির উপর লক্ষ্য রেখেই সারাদেশে জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিবে ক্ষমতাসীনরা। সেই ক্ষেত্রে শরিক জোটের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা দেখা হবে। শরিক জোটের নিশ্চিত বিজয়ী প্রার্থীরা এবার মনোনয়ন পেতে পারে বলে জানিয়েছে এ নীতিনির্ধারণী সূত্র।

সূত্র আরও জানান যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জোটে থাকা শরিক দল নিজস্ব প্রতীকের পরিবর্তে জোটের প্রধান শরীক দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক রয়েছে। নিবন্ধিত এই ৩৯টি দলের মধ্যে ২৩টি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীনে দুই জোটে রয়েছে। বাকি ১৬টি দল এখন পযন্ত দুই জোটের বাইরে রয়েছে। দুই জোটে থাকা ২৩টি দলের মধ্যে মাত্র চারটি দল এখন পর্যন্ত নিজস্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করছে। দল চারটি হল আওয়ামীলীগ (নৌকা), বিএনপি (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল), গণফোরাম (উদীয়মান সুর্য)। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট শরিকরা ক্ষমতাসীনদের প্রতীকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তৃর্ণমূলে জোট শরিকদের জনপ্রিয় প্রার্থীরা নৌকার টিকেট দিবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোট শরিকদের সাথে চূড়ান্তের আগেই কথা বলে নিবে একক ভাবে প্রতিটি শরিক দলের সাথে। তবে কারা কত আসন পাবে জোট শরিকদের নিরিবিলি আলোচনা করে নিবে দলের সভাপতি এমনটাই নিশ্চিত করেচে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

অপরদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে ১০০টি আসন চেয়ে বসে রয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ১০০ আসনের একটি তালিকা দিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দর-কষাকষি শুরু করবে দলটি। সম্মানজনক আসন পেলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তারা নির্বাচনে যাবেন। ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েই জাতীয় পার্টি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। এবারের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে জানা যায় দলটির সূত্রে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন চেয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগ আমাদের সম্মানজনক আসন বরাদ্দ দেবে। আমাদের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে শুনেছি, জোটের শরিকদের আওয়ামী লীগ ৭০টি আসন দিতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলকে আওয়ামী লীগ কত আসন দিতে চায়, এ বিষয়ে এখনো ওই দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে চূড়ান্ত কথা হয়নি। তবে আমরা সম্মানজনক আসন চাইছি। এটি হলেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে যাব।’

১৪-দলীয় জোটের শরিকরা আওয়ামী লীগের কাছে আসন ভাগাভাগির জন্য বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও সাক্ষাতের সময় জোটপ্রধান দলের কাছে বিষয়টি তুলে ধরছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট হিসাবে ভোট করে আওয়ামী লীগ। এতে ১৪ দলের শরিক ছাড়াও জাতীয় পার্টি অংশ নেয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে মহাজোট ছেড়ে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এখন সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে।

১৪ দলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আগ থেকেই আসন বিন্যাসের কথা বার বার বলে আসছিলেন জোটের শরিকরা। শরিকরা চেয়ে ছিলেন নিজেদের প্রয়োজন মতো আসন। তবে শরিকদের চাওয়া-পাওয়ার কথা মাথায় রেখেই সামনে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা।

গত ৪ নভেম্বর ১৪ দলের সাথে ক্ষমতাসীনদের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আসন বণ্টন নিয়ে ভাববেন না। আশা করি এটা নিয়ে সমস্যা হবে না। যে যতটা আসন চান পাবেন। তবে সবাইকে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের পর কিছুটা আশ্বস্ত হলেরও নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরই টেনশনে পড়ে যায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন বিক্রি শুরু হলেই সেই শরিকদের টেনশন যেন আকাশ ছুইছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে নির্বাচন করতো, তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বাছাই পর্ব শেষ করেই চূড়ান্ত করেই ঘোষণা করা যেতো এখানে যেহেতু আমাদের সাথে জোট আছে, বড় জোট আছে এবং আরও দুই একটি যুক্তফ্রন্ট তারা আওয়ামী লীগের সাথে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে পারে। সেই সব বিবেচনা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করার পর অন্যান্য যারা জোটে আছে, তাদের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করার পর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

জাসদ (একাংশের) সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এখনও আলোচনা হয়নি। তবে কথা হয়েছে। আমাদের সাথে আলোচনা হবে। এবার কয়টি আসন পাবো, তা আমরা জানি না। এমনিতেই গতবার ৬টি আসন পেয়েছিলাম। এবার এর ডাবল আশা করছি। আসন ভাগাভাগি নিয়ে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না।

জাসদ (আরেক অংশের) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া কাছে জোট শরিকদের আসন ভাগাভাগি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলীর জরুরি সভা শেষে দলের সাধারণ ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শরিক দলগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষিরও একটি বিষয় আছে। তাই শেষ মুহূর্তে দলগুলো নিজ নিজ পক্ষে চেষ্টা করছে আসন বাড়াতে।

বিডি২৪লাইভ/এসআই/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: