এস হোসেন আকাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে আ’লীগ-বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তোলপাড়!

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২১:৩১:৪৭

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে নানা জল্পনা, গুজব ও গুঞ্জনের শেষ নেই। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রায় সবাই অবস্থান করছেন ঢাকায়। ব্যস্ত তাঁরা মনোনয়ন লবিংয়ে। আচমকা আসছে উড়ো খবর। ক্ষণে-ক্ষণে বদলাচ্ছে সুর। পাল্টাচ্ছে দৃশ্যপট।

মনোনয়ন জমা শেষে দলগুলো এখন প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগী। ঘোষণা দেওয়া হবে- দলীয় কিংবা জোটগত ভাবে। এই সময়ে কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাচনী আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে হাওয়ায় ভাসছে নানা খবর। সকালে একজন মনোনয়ন পাচ্ছেন তো আবার বিকালে মনোনয়ন পাচ্ছেন আরেকজন। ফলে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, এখনো কোনো কোনো রাজনৈতিক দল তার নিজের দলেরই প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। এরপর রয়েছে জোটগত হিসাব-নিকাশ। তবে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী আগে থেকেই চূড়ান্ত হয়ে রয়েছেন। এছাড়া একটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও চূড়ান্ত হয়ে রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত ছিল বেশ আগে থেকেই। এই তিনটি আসন হচ্ছে, কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় তাঁর আসন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) এ আওয়ামী লীগ নতুন প্রার্থী দেয় কিনা, সে নিয়ে অবশ্য যথেষ্ঠ কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

বাকি দুইটি আসন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) এ দলীয় প্রার্থীর কোন ধরনের পরিবর্তনের ন্যূনতম সম্ভাবনাও দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগের মতো কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপিরও বেশ আগে থেকেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত অবস্থায় ছিল। এই তিনটি আসন হচ্ছে, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলম।

২০১৬ সালের মে মাসে ড. এম ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগ ওঠার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ফলে নিশ্চিত এই প্রার্থীকে নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বিএনপি। ড. এম ওসমান ফারুক দেশে ফিরে এই আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা, এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে একটি আসনে জাতীয় পার্টির হাইপ্রোফাইল প্রার্থী রয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এটি অনেকটাই নিশ্চিত। তবে তিনি এখানে দলীয় নাকি জোটগত ভাবে নির্বাচনে অংশ নেন, সেটিই এখন কৌতূহলের বিষয়।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলীয় কিংবা জোটগত ভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এই মুহূর্তেই ঘোষণা করা হচ্ছে না। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ সময়ের আগে আগে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হবে। মনোনয়নের ব্যাপারে যেসব খবর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে চাউর হচ্ছে, সেগুলোর সব সত্য নাও হতে পারে।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: