বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আল্লামা শফীর আহ্বান

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:০২:০০

সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিতে গণভবনে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বামে) ও আল্লামা আহমদ শফী (ডানে)। ছবি : ফাইল ফটো

শান্তিপূর্ণভাবে ফিতনামুক্ত বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন, দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী।

বুধাবার (২৮ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে বলতে চাই, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি দ্বীনি কাফেলা। যেখানে সব বয়সের লোকদের দ্বীন শিখার ব্যবস্থা রয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়, দ্বীন শেখার এ মহতি কাজের জন্যই আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশাল ময়দান দিয়েছেন। কল্যাণকর কাজের ব্যবস্থাকারী সাদকায়ে জারিয়ার কল্যাণ লাভ করেন। ইসলামি শরিয়তে সে কাজকে সাদকায়ে জারিয়া বলা হয়।

তাবলিগের এ মহতি কাজটি হজরত মাওলানা ইলিয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মাধ্যমে শুরু হয়। দাওয়াত ও তাবলিগের এ মেহনতি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন- যুগশ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরাম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- মুফতি কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, শায়খুল আরব ওয়াল আযম হুসাইন আহমাদ মাদানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম। এ কাজে সহযোগিতা করেছেন মাওলানা আব্দুল কাদের রায়পুরী, আতাউল্লাহবুখারীর মোনাজেরা ও মাওলানা মনজুর নোমানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম।

এছাড়াও মাওলানা আলী মিয়া নদভীর লেখনী, শায়খুল হাদিস মাওলানা যাকারিয়ার লিখিত কিতাব, মাওলান শামছুল হক ফরিদপুরী ও মাওলানা আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশেও দাওয়াত ও তাবলিগের কাজটি কাকরাইল মসজিদ মারকাজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কুচিন্তা-চেতনার ফলে বিশ্ব ইজতেমা তার গৌরব ও ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে।

বিশেষ করে মাওলানা সাদ কান্ধলভি সাহেবের অনুসারী ওয়াসিফুল ইসলামগং এই হীন ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সুতরাং গত বছর সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় যেভাবে জোড় ও বিশ্ব ইজতেমা সুন্দর ও ফিতনামুক্তভাবে আলেমদের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে আয়োজন হয়েছিল, এ বছরও সেভাবে ফিতনামুক্ত ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করার বিষয়ে আপনার সহযোগিতা বিশেষভাবে কামনা করছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দেয়া টঙ্গীর মাঠে নবি-রাসুলদের সমালোচনাকারী মাওলানা সাদপন্থি ওয়াসিফুল ইসলামগংদের কোনো ধরনের জোড় ও প্রোগ্রাম করার অধিকার থাকতে পারে না এবং তারা তা করতেও পারবে না।

উল্লেখ্য যে, মাওলানা সাদপন্থীরা গত মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখল পেতে প্রশাসনের সহায়তা চান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট মো: ইউনুস মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মো: রফিক, খাদ্য বিভাগের সাবেক ডিজি রুহুল আমিন, ব্যারিস্টার গাজীউর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: