শাহরিয়ার আমিন

বাকৃবি প্রতিনিধি

বাকৃবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪১:৩০

ছবি: প্রতিকি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে বুধবার রাত ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দৈনিক কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবুল বাশারকে সংবাদ সংগ্রহে বাঁধা দেয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করে তারা। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি।

হল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রলীগকর্মী প্রথম বর্ষের এক কর্মীকে থাপ্পড় দেয়। এ ঘটনায় প্রথম বর্ষের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন বুধবার রাতে গেস্টরুমে যেতে আপত্তি জানায়। এতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগকর্মীরা প্রথম বর্ষের কর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় হলের ছাত্রলীগের হল শাখার সিনিয়র নেতারা এসে বিষয়টি মিমাংসা করে। এর কিছুক্ষণ পর আবার প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল বাশারকে দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ২০-২৫ জন ছাত্রলীগকর্মী চড়াও হয়ে কিল-ঘুুষি মারতে থাকে। এসময় হল ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা বাশারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

ঘটনার পরপরই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার মনির, বাশারকে শাসিয়ে বলেন ‘তুমি কেনো এখানে এসেছ? কেনো তুমি হলের খবর বাইরে দেবে? হলের নিউজ করতে হলে হলের সিনিয়র নেতাদের অনুমতি নিতে হবে। পরবর্তীতে তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহরিয়ার মনির তা অস্বীকার করেন।

এরপর বাশারকে রাত ১২ টার দিকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হেলথ কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে নেওয়া হয় এবং এরপর সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।

পরে বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফ বাশারকে দেখতে হাসপাতালে যান। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মিয়া মোহাম্মদ রুবেল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মারধরের ঘটনায় বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শংকর কুমার দাশকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বৃহস্পতিবারে তিনি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এসে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার সাথে মিটিং করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমানকে জানানো হলে তিনি ভ্রুক্ষেপই করেননি। পরে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একান্তই হলের ব্যাপার, এ বিষয়ে আমার কিছুই করার নেই। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতাম।’

এ বিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। আমরা ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: