মো: হৃদয় আলম

ডেস্ক এডিটর

অরিত্রির আত্মহত্যা: যা বললেন তসলিমা নাসরিন

০৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:২৫:০০

ছবি : ইন্টারনেট থেকে

গত কয়েকদিন ধরে খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল দেশের শিক্ষাঙ্গণ। আর এ বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিশিষ্ট নারী লেখক, সাহিত্যিক ও চিকিৎসক তসলিমা নাসরিনও।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। শিক্ষকদের কারণে স্কুল থেকে ফিরে অনেক ছাত্রছাত্রীই আত্মহত্যা করে। কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে হয় বাংলাদেশের শিক্ষকরা তা-ও জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে অরিত্রীর আত্মহত্যা ও দেশের শিক্ষকদের নিয়ে করা তসলিমার শুক্রবারের (৭ ডিসেম্বর) পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

অরিত্রি অধিকারী নামে একটি ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে কারণ পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে কিছু টুকেছিল বলে স্কুলের প্রিন্সিপাল তাকে পরীক্ষা দিতে দেননি, স্কুল থেকেও তাড়িয়ে দেবেন বলে দিয়েছিলেন। অরিত্রির বাবা-মা স্কুলের প্রিন্সিপালকে অনেক অনুরোধ করেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাতে পারেন নি। ক্ষমা চেয়েও ক্ষমা পাননি। অরিত্রি ক্ষোভে যন্ত্রণায় লজ্জায় অপমানে আত্মহত্যা করেছে। এ কোনও নতুন ঘটনা নয়। টিচারদের কারণে স্কুল থেকে ফিরে অনেক ছাত্র ছাত্রীই আত্মহত্যা করে।

আমাদের সময় টিচাররা শরীরে মারতেন। আজকাল টিচাররা মারেন মনে। দুটোই কিন্তু মার। কোনওটির যন্ত্রণা কিন্তু কোনওটি থেকে কম নয়। তাঁরা আসলে পড়াতে জানেন না বলেই মারেন। সভ্য পৃথিবীর কাছ থেকে আমরা কত কিছুই শিখছি। কী করে পড়াতে হয় এটা শিখছি না কেন? সভ্য দেশগুলোয় বিশেষ করে উত্তর ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় গিয়ে তো বাংলাদেশের টিচাররা শিখে আসতে পারেন কী করে পড়াতে হয়। অথবা ওখান থেকে টিচার হায়ার করে আনতে পারেন শেখানোর জন্য।

স্কুল কলেজে টিচারের চাকরি করা, আর ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষিত করা দুটো আলাদা জিনিস। কাউকে শিক্ষিত করতে হলে নিজে শিক্ষিত হতে হয়। যেটি আমাদের স্কুল কলেজের অধিকাংশ টিচারই নন।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: