সম্পাদনা: আমিনুল ইসলাম রোমান

ডেস্ক এডিটর

মাকে ধর্ষণ থেকে বাঁচিয়ে মৃত্যুর কোলে ছেলে

০৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:১২:৪৫

একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখেন তাদের এক প্রতিবেশী রোমান প্রনিন তার মা নাতালিয়া ক্রাপাভিনাকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। এবং মায়ের পুরো শরীর রক্তে ভিজে গেছে।

রোমান প্রনিন নামের প্রতিবেশী জোর করে তার মায়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার চেষ্টা করছিল। তাই দেখে ভায়ানা নামের ছেলেটি তিন কেজি ওজনের একটি ডাম্বশেল দিয়ে ধর্ষককে আঘাত করে। কিন্তু ৩৭ বছর বয়সী রোমান তার আঘাত করা ডাম্বশেলটি ধরে ফেলে। এরপর ছেলের মাথায় ভারী ডাম্বশেলটি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। সে মনে করেছিল মা ও ছেলে দু’জনেই মারা গেছে।

ঘটনাটি ২০১৭ সালে রাশিয়ার উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের সেভেরোদভিনস্ক নামক এলাকায়। ধর্ষণের হাত থেকে মাকে বাঁচিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল সেই কিশোর। ঘটনার পর তাকে ৯ মাস কোমায় থাকতে হয়। অবশেষে জ্ঞান ফিরে পায় কিছুদিন আগে। কিন্তু গত দুই মাস আগে তাকে ফ্লু আক্রমণ করে। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে অবশেষে গত মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার দিন তাদের চিৎকার শুনে অন্য প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। আর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মা ছেলেকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যায়। ভায়ানা কোমায় চলে যায় আর তার মা ২৭ বার অপারেশন করার পর কোনো রকমে সুস্থ হন।

হামলার ঠিক এক বছর পর মারাত্মক অসুস্থ কিশোরের জ্ঞান ফেরে। সে বছরের জুনে সে তার নার্সকে চিনতে শুরু করে। তাছাড়া খুব অল্প পরিমাণে তরল খাবার খেতে সমর্থ হয় ছেলেটি।

এ ঘটনার একমাস পর তাকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসা দিতে তাকে স্পেন পাঠানোর জন্য পুনরায় তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। এরপর চলতি বছরের অক্টোবরে সে ফ্লুতে আক্রান্ত হয়।

অসুস্থ ছেলেকে মা মাত্র অল্প কয়েকবার দেখতে যাওয়ায় পুরো রাশিয়ার মানুষ তার সমালোচনা শুরু করেন। তবে তার মা বলেন, তিনি তার ছেলেকে দেখতে যেতে পারেন না। কারণ তার জন্যই যে ছেলের জীবন আজ সংকটাপন্ন।

প্রনিন নামের হামলাকারীর এর আগেও হত্যা মামলার জন্য ১৪ বছর জেল খেটেছেন। সে এখন জেল থেকে মুক্ত। এমনকি ওই আসামী তাদের বাড়ির খুব কাছাকাছি বসবাস করছে। তাকে আটকানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছে ছেলেটির মা। বর্তমানে এই মামলার তদন্ত চলছে।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: