একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

শেষ সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কঠোর হচ্ছে ইসি

১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ , ০২:১৮:০০

ছবি : ইন্টারনেট থেকে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। শেষ সময়ে এসে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোট সুষ্ঠু করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামীকাল সোমববার (১৭ ডিসেম্বর) বিএনপি নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানি, গ্রেফতার না করতে আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশনা দিবে ইসি। এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর তিন পারবর্ত্য অঞ্চলে সভা করতে যাচ্ছে কমিশন।

সূত্র জানায়, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেই, তাদেরকে যেন অহেতুক হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে হবে। নিষ্প্রয়োজনে কাউকে গ্রেফতার না করে। যারা নেতা রয়েছেন, তাদের যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ না থাকে তাহলে যেন অহেতুক হয়রানি না করা হয় সেই নির্দশনা থাকবে চিঠিতে।

ইভিএম কন্ট্রোলে থাকছে সেনাবহিনী: এদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পরিচালনার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৩শ সেনা সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের কারিগরি সহায়তার জন্য থাকবে মোট ২ হাজার ৫৩৫ জন সেনা সদস্য। আর প্রতি কেন্দ্রের জন্য গঠিত একেকটি টিমে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর তিন জন করে সদস্য। এদের মধ্যে একজন কর্পোরাল, দু’জন ল্যান্স কর্পোরাল অথবা সৈনিক সেনা সদস্য। তাদের কাছ থেকে তথ্য নেবে ভ্রাম্যমাণ কারিগরি টিম। এই টিমে থাকবেন মোট ৫০৭ জন সেনা সদস্য। প্রতি পাঁচ কেন্দ্রের জন্য গঠিত প্রতি টিমে থাকবেন তিন জন করে সেনা সদস্য। এদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট, দুজন কর্পোরাল অথবা ল্যান্স কর্পোরাল বা সৈনিক সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

ভ্রাম্যমাণ টিমের কাছ থেকে তথ্য নেবে ভ্রাম্যমাণ তদারকি টিম। প্রতি ১৫টি কেন্দ্রের জন্য একটি টিম থাকবে। এক্ষেত্রে মোট ১৬৯ জন সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন জেসিও, দু’জন সার্জেন্ট অথবা ল্যান্স কর্পোরাল বা সমমর্যাদার সেনা সদস্য। এদের ওপরে কাজ করবে প্রতি ৫০ কেন্দ্রের জন্য গঠিত একটি করে মোট ১৭টি টিম। আর প্রতি টিমে তিন জন করে মোট ৫১ জন সেনা সদস্য কাজ করবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন একজন মেজর অথবা ক্যাপ্টেন অথবা লেফটেন্যান্ট, একজন জেসিও এবং কর্পোরাল অথবা ল্যান্স কর্পোরাল অথবা সৈনিক সমমর্যাদার সেনা সদস্য। এই টিম সহকারী রিটার্নিং অফিসার বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। আর সবগুলো টিমের কাজ তত্ত্বাবধায়ন করবে উচ্চ পর্যায়ের আরেক টিম। প্রতি আসনে ৫ জন করে সেনা সদস্য নিয়ে এই টিম গঠিত হবে।

অর্থাৎ মোট ৬টি আসনে ৩০ জন সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এতে একজন মেজর, দু’জন ক্যাপ্টেন অথবা লেফটেন্যান্ট, একজন জেসিও অথবা সার্জেন্ট এবং ১ জন কর্পোরাল অথবা ল্যান্স কর্পোরাল অথবা সৈনিক সমমর্যাদার সদস্য। এই টিম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইভিএম পরিচালনা করা হবে দুটি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে। যার একটি থাকবে নির্বাচন কমিশনে আর একটি থাকবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে। সেনা সদস্যরা কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কন্ট্রোল রুমের অধীনে। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম কাজ করবে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমের অধীনে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের একটি কারিগরি টিমের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বিডি২৪লাইভ/এএইচ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: