ঐক্য রক্ষার পরীক্ষা এবার বিএনপির

১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:৩৭:০৬

ছবি: ইন্টারনেট

এনাম আবেদীন: দলের অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ধরে রাখাই বিএনপির এখন নতুন পরীক্ষা। কারণ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলে সংশ্লিষ্ট জোট ও দলগুলোর মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তা বেরিয়ে এলে জোট ও দলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিএনপি ও একাধিক মিত্র দলের কোনো কোনো নেতা।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রেখে কর্মসূচি বাস্তবায়ন বেশ কঠিন হবে বলে বিএনপির অনেক নেতাই এখন মনে করতে শুরু করেছেন। বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলের সর্বস্তরের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই হতাশ। খারাপ হলেও ফল যে ছয়টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে তা তাঁরা ধারণাই করতে পারেননি। কেন এমন হলো এবং এ জন্য কারা দায়ী—এ নিয়ে বিএনপির সর্বস্তরে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় ফোরামের বৈঠক হলে এসব প্রকাশ্যে আসতে পারে। এমনিতেই নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ দলের মধ্যে আগেই ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা আরো বাড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছে।

বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীরা যদিও একমত যে সরকার ‘কূটকৌশল ও বল প্রয়োগ’ করে নির্বাচনী ফল পক্ষে নিয়ে গেছে; তবু বিএনপির কৌশলে ভুল ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেউ বলছে, সরকারের কৌশল আগেই বুঝতে না পারা অন্যতম ব্যর্থতা। আবার কারো মতে, বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নেতারা পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারকে ভারত ও চীনের অভিনন্দন জানানোর ঘটনায় দলটি বিস্মিত হয়েছে। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত ও চীনের সমীকরণ না বদলানো পর্যন্ত কিছুই হবে না।

যদিও বিএনপি যে দুই জোটে আছে তাদের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হবে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ রকম একটি নির্বাচনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটে। অনেক মান-অভিমান, পাওয়া না পাওয়ার বেদনা ভর করে। তবু বিএনপির অভ্যন্তরে কিছু সমস্যা থাকলেও তা দলটি কাটিয়ে উঠতে পারবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির এখনই জরুরি কাউন্সিল সভা ডাকা দরকার। তাঁর মতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকলেও ২০ দল ভেঙে যাওয়া ভালো। জামায়াতের বেরিয়ে যাওয়া উচিত।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অবশ্য মনে করেন, এত বড় ‘ভোট চুরির’ নির্বাচনের পর দলের মধ্যে এবং দুই জোটের সঙ্গে ঐক্য ধরে রাখা অবশ্যই বিএনপির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। তবে ভেবে-চিন্তে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, এ জন্য সময়ের প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। সব কিছু পর্যালোচনা করে তারপর নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বিএনপির চ্যালেঞ্জ : জানা যায়, নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে আগেই দ্বিমত ছিল। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের একাংশ বলছে, নির্বাচনে যাওয়াটাই বড় ভুল হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগের আঙুল সিনিয়র নেতাদের দিকে তুলছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে সোচ্চার নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে, দলকে বিপর্যয়ের দিকে তাঁরাই নিয়ে গেছেন। বিএনপিতে ‘ভারতপন্থী’ কারা সে প্রশ্নও উঠছে। আবার নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া অন্য উপায় ছিল না বলে যে মত আছে সেটিও দলের মধ্যে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। কারণ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশনায় নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন যাঁরা এ নিয়ে কথা বলছেন তাঁরা দলে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠছে অন্য অংশের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা বেশ কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বিএনপি এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলছে বলেই সবাই জানে। কিন্তু নির্বাচনের পর তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি কতটা সামনে এগোতে পারবে সে প্রশ্নও উঠছে। কেউ কেউ বলছেন, তারেকের অতীত ভূমিকার কারণেই বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত বিএনপিকে এখনো আস্থায় নিতে পারছে না। তাঁর আস্থাভাজন কয়েক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি স্কাইপে বিএনপির প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ঘটনায় শেষ মুহূর্তে বিএনপির ক্ষতি হয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। যদিও তারেকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকে শঙ্কিত।

বিএনপি জোটের যাঁরা প্রার্থী ছিলেন তাঁদের গত ৩ জানুয়ারি গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ডাকা হলেও অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে নির্বাচনে যাওয়ার সাত শর্তের একটিও না মানা সত্ত্বেও কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। গত ৩১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও নির্বাচন কমিশনে একযোগে প্রার্থীদের প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তাব নিয়ে প্রভাবশালী দুই নেতার মধ্যে প্রচণ্ড বাগিবতণ্ডা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে যোগদান নিয়েও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা প্রকাশ পায়নি।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরও বিএনপির ঐক্য ধরে রাখা দলটির অন্যতম সফলতা বলে বিবেচিত ছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, শত বিপর্যয়ের মধ্যেও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। কারণ এ ছাড়া দলটির নেতাকর্মীদের অন্য কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, দুই জোটের সঙ্গেই ঐক্য বহাল থাকবে। যেসব কারণে ঐক্য করা হয়েছিল, সেই কারণগুলো এখনো রয়ে গেছে বা পরিবর্তন হয়নি।

জোটের সামনে যেসব সমস্যা : বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুটি জোটের মধ্যে নির্বাচনের পর দুই ধরনের সমস্যা চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো মনে করছে, বিএনপি নতুন গড়া ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বেশি মাতামাতি করছে এবং তাদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জানা গেছে, শরিক দলগুলো বাদ দিয়ে শুধু ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে যাওয়ায় ২০ দলীয় জোটের শরিক অন্য দলগুলো প্রথম দফায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল। ওই দলগুলোর নেতাদের অভিযোগ, এরপর নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন সভা ও সংবাদ সম্মেলনও বেশির ভাগ সময় বিএনপি ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে করেছে। আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও ফ্রন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের গত ৩ জানুয়ারি ঢাকায় ডেকে সভা করা হলেও তাতে যোগ দেননি জামায়াত, এলডিপি ও বিজেপির প্রার্থীরা। যদিও কালের কণ্ঠকে তাঁরা জানিয়েছেন, সময়ের কারণে তাঁরা যাননি। কিন্তু অন্যভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা যাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলডিপির এক নেতা বলেন, ভবিষ্যতেও তাঁরা যাবেন কি না সন্দেহ আছে। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও তাঁরা যোগ দেননি।

সূত্র মতে, জামায়াতকে নিয়েও বিএনপিতে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক যে সমীকরণ দাঁড়িয়েছে, তাতে জামায়াতকে জোটে রেখে আর বেশিদূর এগোনো যাবে না। ফলে বিএনপি জোট থেকে জামায়াত বেরিয়ে যাক বলেই চাইছে এখন বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী। অনেকের মতে, দলীয় ফোরামের বৈঠক হলে এ ইস্যু সামনে আসবে এবং তখন দলটির বিএনপির সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন হবে।

২০ দলীয় জোটের শরিক একটি দলের প্রধান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে থেকেও কোনো মূল্য পাওয়া যায়নি। তারা নতুন গঠিত ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে মাতামাতি করছে। অথচ আমার দলে যে কয়জন নেতা আছে ওই দলগুলোর অনেকের সে কয়জন কর্মীও নেই।’

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের ঐক্য থাকবে। তবে প্রধান শরিক বিএনপির দায়িত্বের মধ্যে একটি কাজ বাড়ল, সেটি হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট উভয়ের প্রতি প্রদত্ত মনোযোগের মধ্যে ভারসাম্য আনা।’

এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ অবশ্য মনে করেন, ঐক্য ঠিক থাকবে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন কোনো মেরুকরণ হয় কি না, সেটি দেখার বিষয়। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বেশি সখ্য নিয়ে আমাদের তেমন আপত্তি নেই।’ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলডিপির অপর এক নেতা জানান, ফ্রন্টের সঙ্গে মাতামাতি দেখে তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

এদিকে জামায়াত নিয়ে ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপির ওপর চাপ রয়েছে। অন্যদিকে গণফোরামের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার প্রশ্নে আবার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর মধ্যে। যদিও সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে; কিন্তু ভেতরে এখনো সংশয় রয়ে গেছে। কারণ নির্বাচিত ওই দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান বৈঠকে যোগ দেননি। শুধু তা-ই নয়, ৩ জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ডাকে অনুষ্ঠিত সভায়ও তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন। ওই দুই সংসদ সদস্য অবশ্য কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, গণফোরামের নেতা ড. কামাল হোসেনের নির্দেশমতো তাঁরা কাজ করবেন। কিন্তু মোকাব্বির খান আবার দাবি করছেন যে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁরা শপথ নেবেন বলে অনেকে ধারণা করছে। বিএনপির পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর নেতারাও মনে করেন, ওই দুই সংসদ সদস্য শপথ নিলে শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের টিকে থাকা কঠিন হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ঐক্য ধরে রাখার ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আছে। তবে যুক্তি ও বাস্তবতা মেনে এগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব। নির্বাচিত দুজন শপথ নিলে ঐক্যের ক্ষতি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনে হয় না ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছাড়া ওই দুই এমপি কিছু করবেন। করলে তখন দেখা যাবে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়!’

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘ঐক্য থাকবে না এমন পরিস্থিতি এখনো হয়নি। ভবিষ্যতে হলে বলতে পারব।’ দুজন শপথ নিলে পরিস্থিতি কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁদের শপথ নেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সে রকম পরিস্থিতি হলে তখন বলা যাবে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই এমপি শপথ নিলে জোটের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘শপথ তাঁরা নেবেন এ রকম বলছেন না। অন্তত বৈঠকের সিদ্ধান্ত তা বলে না। কারণ গণফোরামের নেতারা শপথ নেওয়াকে এখনো অনুমোদন দেননি।’ সূত্র: কালেরকন্ঠ।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: