প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

রাজধানীতে সেই নারী বাইক চালকের বাইক ছিনতাই

প্রকাশিত: ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ, ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

উবারচালক শাহনাজ আকতার। ছবি : সংগৃহীত

নারী হয়েও রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার চালানোর কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সেই শাহনাজ আক্তারের বাইকটি ছিনতাই হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে রাজধানী স্কুলের সামনে থেকে তার বাইকটি ছিনতাই করে এক ব্যক্তি।

ঘটনার পর থেকেই শাহনাজ আক্তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। হেলমেট পরেই শাহনাজ পাগলের মতো বিভিন্ন মহলে ছুটে বেড়াচ্ছেন তার বাইকটি উদ্ধারের চেষ্টায়।

এ বিষয়ে শাহনাজ আক্তার বলেন, ঋণ করে স্কুটিটি কিনেছিলাম। এই স্কুটিটি দিয়েই চলত আমার সংসার। আজ সেই সম্বলটাও ছিনতাই হয়ে গেল। জানি না কীভাবে এই ধাক্কা সামাল দেব।

এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শাহনাজ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের জেষ্ঠ্য সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এরই মধ্যে থানায় শাহনাজের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব আজ রাতের ভেতরে সবদিকে তল্লাশি করে বাইকটি উদ্ধার করার জন্য।’ 

যেভাবে চুরি হলো-

বাইক চুরির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, ‘গতপাঁচ দিন আগে জনি নামে একজনের সাথে পরিচয় হয়। তিনি জানান যে- সে বাইকের পার্মানেন্ট ট্রিপ মারেন। উনি আমাকে বলতেছিলেন যে আপা আপনি পার্মানেন্ট ট্রিপ মারতে পারেন না? -আমি বললাম, খুঁজিতো আমি এগুলা পাইনা ভাই। আপনার কাছে আছে নাকি?

– উনি বললো, আমিতো পার্মানেন্ট মারি।

-জিজ্ঞেস করলাম, ভাই এটার সিস্টেম কি? – উনি বলেন, উনি কয়েকজন ড্রাইভার ঠিক করে রাখেন। যখন স্যার ম্যাডামদের সিরিয়াস দরকার হয় তখন তাদের ট্রিপ দেন।

-আমি বললাম, টাকা পয়সা দেয় কিভাবে? –বলে, ধরেন খামার বাড়ি থেকে উত্তরা এয়ারপোর্ট যাবেন আবার নিয়ে আসবেন। আসার পর আপনার ডিউটি শেষ। আপনাকে তেলের খরচসহ ১২০০ টাকা দিয়ে দেবে।

-বললাম, এরকম হইলে তো ভালই হয়।’

শাহনাজ বলেন, ‘পরের দিনে উনি আমাকে ফোন দিয়ে বললেন আপনার গাড়ির কাগজের একটা কপি নিয়ে এসে আমার সাথে দেখা করেন। এরপর ২ দিন আগে আমি তার সাথে দেখা করে গাড়ির কাগজপত্র দিয়ে দেই।’

‘এরপর মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে আমি আমার বড় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়েছিলাম দুপুরে। এ সময় জনি (যিনি বাইকটি ছিনতাই করেছে) আমাকে কয়েক বার ফোন দিয়েছে। আমি বললাম, ভাই কি হয়েছে। উনি বললেন, আপনার চাকরি হয়ে গেছে, আপনি দ্রুত বাইক নিয়ে খামার বাড়ি চলে আসেন। এরপর আমি খামার বাড়ি চলে আসি।’

‘এরপর বেশ কয়েকটা অফিস ঘোরাঘুরির পর আমরা বেলা তিনটা নাগাদ খামারবাড়ি মোড়ে আসি।’

‘এ সময় তিনি যেন কাকে ফোন করে বললেন দ্রুত আজকের বাইকের বিলের কাগজটা নিয়ে আসো তো। ফোন রেখে দিয়ে তিনি আমাকে বললেন চলেন চা খাই। আমরা সংসদ ভবনের সামনের টিএন্ডটি মাঠের পাশের একটা চায়ের দোকানে চা খাই। তারপর উনি আমাকে বললেন, চলেন কাওরান বাজারে যাব একটা কাজ আছে। আপনি ভাড়া পাবেন।’

‘আমি বললাম ভাই আমার গাড়িতে তো তেল নেই। উনি বললেন সমস্যা নাই আমি তেল কিনে দিচ্ছি। তখন আমি বাইকে চাবি দিয়ে চালাতে যাব, এমন সময় উনি বললেন আপনাদের এই বাইক কিভাবে চালায় দেখিতো.. বলে তিনি আমার বাইকে বসে ক্লাস চালু করলেন। আমি বললাম আমার বাইকে এভাবে টানলে কাজ হবে না। এমন সময় উনি বাইকের ক্লাস টেনে জোরে একটা টান দিলেন। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফাঁকা রাস্তায় হাওয়া হয়ে গেলেন।’

‘আমি পাগলের মত পিছনে দৌড়ালাম, কিন্তু তার আর দেখা পাই না। আমি দ্রুত তখন দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে বললাম। পুলিশ আমাকে থানায় পাঠালো। আমি থানায় গিয়ে একটা জিডি দায়ের করেছি।’

শাহনাজ সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। রাজধানীর মিরপুরেই জন্ম শাহনাজের। তার বাবা নেই, মা আর বোনেরা আছেন। তিনি তার দুই মেয়ে নিয়ে মা-বোনদের সহোযোগিতায় কোন রকমে দিন পার করেন।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: