প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

টিআইবির রিপোর্টে ইসি ও সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে: রিজভী  

১৭ জানুয়ারি ২০১৯ , ০২:৫৭:০২

ছবি: ইন্টারনেট

নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের টিআইবির প্রতিবেদন ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতে ঘা লেগেছে’, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের ঘন অন্ধকার ভেদ করে টিআইবি রিপোর্টে ভোট ডাকাতির মহাসত্য প্রকাশ করেছে। তাই সরকারের মন্ত্রীরা ও নির্বাচন কমিশন মুখ লুকাতে পারছে না। সেজন্য আর্তচিৎকার করে সত্য লুকানোর চেষ্টা করলেও কোন লাভ নেই।’

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে, রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টিআইবির প্রকাশিত রিপোর্টকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, মানুষ যা জানার নির্বাচনের আগের দিন রাত থেকেই জেনেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরদিনের জন্য কোলবালিশের মতো আঁকড়ে ধরে রাখতে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই ভোটারদেরকে ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছে সরকার। গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে রেখে, বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে, ভোটারদেরকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে, নির্বাচন কমিশনে মোসাহেবদের বসিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না।

বিএনপির এই নেতা দাবি করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নির্বাচন মেনে নেয়নি। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনে মহাভোট ডাকাতি নিয়ে প্রতিবেদন, মন্তব্য করেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো বলেছে-এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এই ভুয়া ভোটের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তদন্ত দাবি করেছে।

একাদশ নির্বাচনকে বিশ্ববাসী এই নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে বলেও মন্তব্য 
করেন রিজভী।

দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করে এই দেশ স্বাধীন করেছে, তারা প্রয়োজন হলে জীবন দিয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে দাবি করা হয়, ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসন দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল টিআইবি। এই ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে জালভোট হয়েছে।  সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা মূলত আংশিক অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলে দাবি করেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আচরণবিধি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

টিআইবির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১৬ জানুয়ারি) এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ওই প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। পত্রপত্রিকায় এ ধরনের কোনও অনিয়মের তথ্য দেখা যায়নি।’

এই প্রতিক্রিয়ায় বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টিআইবির অভিযোগ অলীক রহস্যময় কাহিনি। টিআইবিকে বলবো, গল্প খাওয়াচ্ছেন, অনেক অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছেন যে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি। স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ব্যবহার করা হয়েছে। আপনাদের কোনও একজন প্রতিনিধি বা প্রতিপক্ষের এজেন্ট নির্বাচনি কেন্দ্রে কি এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছে? টিআইবি আসলে স্বচ্ছতার বিরুদ্ধে কথা বলছে।’

বিডি২৪লাইভ/এসএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: