প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

নরসিংদীতে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

২০ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৬:৩৪:৪০

মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণায় সারা দেশের মতো নরসিংদীতে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ।

নরসিংদীর জেলার ৬টি উপজেলায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ দলীয় একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। কর্মী সমর্থকরা নিজ নিজ পছন্দের নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে দাবি উত্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা ও আলোচনা শুরু করেছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীরাও লবিং করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দলের জেলা, উপজেলা এমনকি কেন্দ্রেও। তবে এখনও পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কোনও নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, যারা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তারা অনেকটা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ শেষ হওয়ার পর সারাদেশের মতো নরসিংদী জেলাতেও এখন উপজেলা নির্বাচনের বাতাস বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আভাস ঘোষণার পর দলীয় লবিং শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এখন পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, নরসিংদী সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফর আলী ভূঁইয়া, মাধবদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও সুইডেন প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা আতাউর রহমান।

পলাশ উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জাবেদ হোসেন ও পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলী ভূঁইয়া।
শিবপুর উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ খাঁন, সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি নূর উদ্দিন মোল্লার নাম শোনা যাচ্ছে।

মনোহরদী উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রঙ্গু,সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াশিষ রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আপেল, মোল্লা জহিরুল ইসলাম মুকুল, লায়ন জাহাঙ্গীর আলম, সামসুন্নাহার এমিলি রয়েছেন আলোচনায়।

বেলাব উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান সমসের জামান ভূঁইয়া রিটন এবং যুগ্ম সম্পাদক শরীফ উদ্দিন খান মোমেনের নাম শোনা যাচ্ছে।
রায়পুরায় আলোচনায় আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর তাঁতী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকাস্থ নরসিংদী জেলা ফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন মাহমুদ, শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল, রায়পুরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলম শাহিন ও আলহাজ্ব হাসান জামিল বাদল।

নরসিংদী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘যেহেতু এবারের উপজেলা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে, সেহেতু মনোনয়ন পাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে নির্বাচন করা না করা। দল যদি তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেয় তাহলে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

পলাশ উপজেলা পষিদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীরীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ জাবেদ হোসেন বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনে জনগণের সাথে থেকে কাজ করেছি, তাই বিগত উপজেলা নির্বাচনে দল আমাকে মনোনিত করেছিলেন এবং জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সাধ্যমতো উপজেলাবাসীর খেদমত করার চেষ্টা করেছি, জানি না কতটুকু করতে পেরেছি। আমি চেয়ারম্যান হয়ে কারও ক্ষতি করিনি। আর সেই চিন্তা মাথায় রেখেই জনগণ পুণরায় আমাকে পলাশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তাদের পবিত্র ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতি আদর্শ মেনে দলের জন্য কাজ করছি। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আমি একজন প্রার্থী। সেজন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও চাইছেন যেন আমি নির্বাচন করি।’

বেলাব উপজেলার শরীফ উদ্দিন খান মোমেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি সবদিক বিবেচনা করে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’
ঢাকাস্থ নরসিংদী জেলা ফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন মাহমুদ বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে রাজ পথে ছিলাম। জীবন যৌবনের দিকে না তাকিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও অসা¤প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে জাতির জনকের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের কল্যাণের অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করে চলেছি। মনোনয়নের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং জননেতা রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু ভাই আমার ত্যাগ ও বিগত দিনের অবদানের স্বীকৃতি দিবেন বলে আমার বিশ্বাস।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপর অনেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এমন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় কোনও নির্দেশনা জেলা আওয়ামী লীগ পায়নি।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: