সম্পাদনা: সাজিদ সুমন

ডেস্ক এডিটর

বিএনপি ছাড় দিতে চায়

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:০৫:২৪

কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে এখন সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির বিপরীতে প্রয়োজনে রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যেতেও সম্মত আছেন তারা।

অর্থাৎ ‘ছাড়’ দিয়ে হলেও দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি চায় বিএনপি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে পর্দার অন্তরালে আলোচনা করতে আগ্রহী বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।

এরই ধারাবাহিকতায় দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না; সংসদে যাবে না বিএনপি। এখনো পর্যন্ত এ অবস্থানে অনড় বিএনপি। সাম্প্রতিক আলোচনার সূত্র ধরে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে শপথ গ্রহণ করে সংসদে আসার শর্ত দেওয়া হতে পারে। এতে রাজি হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলতে পারে।

এ শর্তে বিএনপি সম্মত হতে পারে বলে আলোচনাসূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পর্দার অন্তরালে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ করতে চায় বিএনপি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলটি নির্বাচনে যাচ্ছে। ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করা হবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর দলটি নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়।
কিন্তু যে ইস্যুকে মূল প্রতিপাদ্য ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে এসেছিল, নির্বাচনের পর সেই ইস্যুর বিষয়ে অর্থাৎ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি বা উদ্যোগ দেখা যায়নি। যদিও ভোটের পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির নেতারা দুই দফায় বৈঠক করেছেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি।

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বিদ্যমান বাস্তবতায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার সম্ভাব্য পথ নিয়ে ভাবছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসব পথের মধ্যে রয়েছে, রাজপথে আন্দোলন, সরকারের সঙ্গে সংলাপ, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে কূটনৈতিক পর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টি ইত্যাদি।

সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সন্ধানে করণীয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। সেখানে নানা প্রস্তাব উঠে আসে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। একজন নিরপরাধ ব্যক্তি, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি বিনাদোষে সাজা খাটবেন, তা হতে পারে না। তাকে মুক্তি দিতেই হবে। রাজপথ ও আইনি লড়াই চলছে। এটি আরও জোরদার করা হবে। তবে তিনি পর্দার আড়ালে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কিছু বলেননি।

একদিকে যখন বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে, অন্যদিকে তখন দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তাব দিয়ে এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

গত বৃহস্পতিবার দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মদিনের আলোচনাসভায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। ২০০৮ সালে এমনিভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তার পর পর কিন্তু আমরা দলের কাউন্সিল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী এই নির্বাচনে যারা পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, তরুণদের জন্য তাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে মওদুদ আহমদ বলেন, যারা এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমাদের মতো যাদের বয়স হয়ে গেছে, তারা সরে যাব। দলের প্রয়োজনে এখন পুনর্গঠন করা উচিত। কয়েক মাসের মধ্যেই এটি করতে হবে। তা হলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

তাদের এমন বক্তব্যের জেরে এখন দলের নেতাদের মধ্যেই বেশ কিছু প্রশ্ন জেগেছে, এসব কথার মধ্যে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য আছে কি? ব্যর্থ বলতে তারা কাকে বুঝিয়েছেন? কেউ বলছেন, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরিয়ে দেওয়ার আভাস দিয়েছেন তারা। আবার কেউ বলছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম দুজনের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। তাই তার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিল হলে তিনিও তো বাদ পড়তে পারেন!

এ বিষয়ে ড. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মওদুদ আহমদ বলেন, যা বলার বলেছি। আর কিছুই বলব না।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, দুই নেতার এমন বক্তব্যে তারা অস্বস্তিবোধ করছেন। সূত্র: আমাদের সময়।

বিডি২৪লাইভ/এসএস

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: