মনজুরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

সিজারে নবজাতককে কেটে ফেললেন ডাক্তার

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:১২:০০

ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সিজারের সময় নবজাতককে কেটে ফেলেছেন চিকিৎসক। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন মৃত নবজাতকের বাবা-মা।

রোববার (২০ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালি পরশ প্রাইভেট ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালের তিন পরিচালককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- রেজাউল করিম মুরাদ, আজাহার মাহমুদ জুয়েল ও আশরাফুর রহমান।

ছবি: প্রতিনিধি

রোববার রাত ১২টার দিকে প্রসব ব্যথা নিয়ে নগরীর আলিয়া মাদরাসা রোডের পরশ ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সদর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের জান্নাত বেগম (২২) এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের আধা ঘণ্টা পর পরিবারের হাতে মৃত সন্তান তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে দেখা যায়, মৃত সন্তানের পিঠ ও গাল কাটা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, বাচ্চা গর্ভেই দুদিন আগে মারা গিয়েছিল। নিয়ে যান দ্রুত কবর দিয়ে ফেলেন। পরে অভিভাবকরা নবজাতকের শরীরে বিভিন্ন স্থানে কাটা ও পিঠের পুরো চামড়া কাটা দেখে বুঝতে পারেন এ কারণেই তাদের সন্তান মারা গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মৃত নবজাতকের স্বজনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুরুল আলম বলেন, মৃত নবজাতকের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালের তিন পরিচালককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আব্দুর রউফ জানান, পরশ প্রাইভেট হাসপাতালের সরকারি কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও অবহেলা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মৃত নবজাতকের বাবা পোশাক শ্রমিক হারুন অর রশিদ জানান, রোববার সকালে জান্নাতের প্রসব ব্যথা শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে পরশ হাসপাতালে ১৬ হাজার টাকা চুক্তিতে জান্নাতকে ভর্তি করি। কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাত ১২টার দিকে সিজারের মাধ্যমে জান্নাতের কন্যা সন্তান প্রসব করান চিকিৎসকরা। জন্মের আধা ঘণ্টা পর আমাদের কাছে মৃত সন্তান তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তখন দেখি মৃত সন্তানের পিঠে, গালে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা চিহ্ন। সিজারের সময় নবজাতকের শরীর কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকরা। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ছবি: প্রতিনিধি

হারুন অর রশিদ আরও বলেন, সিজারের সময় নবজাতককে কেটে ফেলায় এবং চিকিৎসকদের অবহেলায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমি তদন্তপূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে পরশ হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম মুরাদ বলেন, প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা নিয়ে জান্নাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পেটের ভেতরে ২-১ দিন আগেই বাচ্চা মারা যায়। সিজারের মাধ্যমে মৃত বাচ্চা বের করে আনেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এতে কোনো অবহেলা নেই। নবজাতক কেটে ফেলার বিষয়টি সঠিক নয়।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: