গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী

‘অভিজ্ঞতার ভান্ডার একেবারে শূন্য না’

২২ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৫:৫০:৩৮

ছবি: ইন্টারনেট

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এই নতুন এ মন্ত্রিসভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। তিনি প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন এবং এমপি হয়েই মন্ত্রীর আসনে বসেছেন।

দায়িত্ব পাওয়া নিজের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কিভাবে কাজ করবেন, কি পরিকল্পনা, কি প্রতিবন্ধিকতা, কি চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য কি? সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সরাসরি টক-শো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তা জানিয়েছেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।

আপনি নতুন দায়িত্ব পেলেন তো কিভাবে কাজ করবেন ও লক্ষ্য কি? ওই অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকার করা এমন প্রশ্নের জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি প্রফেশনালি দায়িত্ব পালন করিনি এটা সত্য। তবে অভিজ্ঞতার ভান্ডার একেবারে শূন্য না। ছাত্র রাজনীতি করেছি, জিয়াউর রহমান ও এরশাদের মার্শালের এগেনেস্টে রাজনীতি করেছি। ফলে দীর্ঘদিন জেলখানায় ছিলাম। ল’এয়ারদের যে সকল অর্গানাইজেশন যেমন বার অ্যাসোসিয়েশন সুপ্রিম কোর্ট, বার কাউন্সিল এগুলোর অ্যাডমিনিস্টেটিভ এর দায়িত্ব পালন করেছি। নেপথ্যে থেকে আরও অনেক দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে অভিজ্ঞতা একেবারে নেই তা নয়। আইন বিজ্ঞান হচ্ছে সকল বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বের বিজ্ঞান। বাংলাদেশের এমন কোন সেক্টর নেই, যেখানে আইনের প্রয়োগ থাকবে না। ব্যবসা করতে গেলে আইনের প্রয়োজন আছে, আপনি মন্ত্রিপরিষদে থাকলে আইনের দরকার আছে, এমপি হতে গেলে আইনের দরকার আছে।

মন্ত্রী বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। যেখানে আইনের প্রয়োগটা বিশাল। এই মন্ত্রণালয়ে ১২টি অধিদপ্তর আছে।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে শ ম রেজাউল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কথাটা হচ্ছে উনি নগরের সুবিধা গ্রামকে দিতে চেয়েছেন। সেই জায়গাটা সম্পূর্ণ রুপে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বড় প্রজেক্টের আওতাধীন।

ডিজিটালাইজেশন সম্পর্কে এক দর্শকের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমি ডিজিটালাইজেশন চায়। ওই দর্শকের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ভূমি ব্যবস্থার একটা আমল পরিবর্তন আসছে। আগে ছিল মার সনাতনী পদ্ধতির পরচা- সিএস, আরএস। একটা কপি না থাকলে তার অস্থিত্ব নেই। এখন সব কিছুই ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতিতে সার্ভে করা হচ্ছে। রেকর্ড করা হচ্ছে।

দুর্নীতি নিয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে স্বমূলে উচ্ছেদ করার জন্য যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তার টিমের একজন মেম্বার হিসেবে আমার মন্ত্রণালয়ের যে সকল দপ্তর আছে, অধিদপ্তর আছে এবং অন্যান্য সেক্টরে আমি চেষ্টা করব সেখানে কোনো ভাবেই যেন দুর্নীতি মাথা চাড়াদিয়ে উঠতে না পারে। একসঙ্গে বিনাশ করতে পারবো না এই কথা বলব না। কিন্তু, দুর্নীতি যেন কোনো ভাবেই মাথা চাড়াদিতে না পারে, দুর্নীতি যাতে না হয়। স্বচ্ছতার সঙ্গে, সত্যতার সঙ্গে যাতে হয়। সেজন্য আমি উদ্যোগ গ্রহণ করব।

মন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ৭৯ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা, পরের কথা শোনা, নিজের কথা অন্যকে শোনানো। পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড নাই যেকোন সরকারপ্রধান ৭০টি দলের সঙ্গে এক নাগারে সংলাপ করেছে, শুধু তাই না, একই দলের সঙ্গে একাধিকবারও সংলাপ করে তাদের কথা শুনেছেন। যতটা গ্রহণ করার মতো গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্রকে বিকশিত করার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্যদেরকে (রাজনৈতিক দর) যতটা সম্ভব স্পেস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আইনের সংবিধানে যতটা সম্ভব হয় তা দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর -নাজিরপুর-স্বরূপকাঠি) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: