প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

অধ্যাপককে পুলিশের মারধর, এলাকায় রণক্ষেত্র

২৩ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৭:৫০:০০

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাফিক পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন এক অধ্যাপক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও করে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৩ জানুয়ারি) ময়মনসিংহে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বিষয়টি অনভিপ্রেত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিক কলেজ ক্যাম্পাস ও হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য কলেজের শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে শহরের জিলা স্কুল মোড়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমের গাড়ির সঙ্গে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এ সময় রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ আসলাম হোসেন ও চালকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে প্রাইভেটকারে থাকা ওই শিক্ষক গাড়ি থেকে নেমে এসে ট্রাফিক পুলিশের কাছে ঘটনাটি জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে ওই ট্রাফিক বিষয়টি টহল পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তাকে টেনে হিঁচড়ে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন।

এ খবর কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে।

পরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা কোতোয়ালি মডেল থানা ও ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৫ পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

এদের মধ্যে পাঁচ পুলিশসহ ১৫ শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. নায়েরুজ্জামানকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন ও ওই কলেজের শিক্ষক একেএম দেলোয়ার হোসেনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: