প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

ইমরুল নুর

বিনোদন প্রতিবেদক

মনে পড়ে সেই ‘ইত্যাদি’র নানার কথা?

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৪৪:৩৬

ছোট বড় সবার কাছে ‘নানা’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা অমল বোস। তার প্রকৃত নাম অমলেন্দু বিশ্বাস হলেও তাকে অমল নামেই জানতো সবাই। অভিনয় করেছেন অসংখ্য নাটক ও সিনেমায়।

২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে অকাল মৃত্যু ঘটে তার। সদাপ্রফুল্ল খ্যাতিমান এই অভিনেতার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন হারিয়েছে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় গুণী শিল্পীকে। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও ‘ইত্যাদি’র অনুষ্ঠান দেখতে বসলে নাতির উপস্থিতিতে তাকে স্মরণ করেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তার মৃত্যুর এতদিন হয়ে গেলেও তাকে নিয়ে কোথায় কোন আয়োজন দেখা যায় নি। গতকাল বুধবার ছিলো এই গুণী অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী কিন্তু সেটা নিরবেই চলে গেলো। এভাবেই গুণী মানুষগুলোর প্রতি অবহেলা করা হয় সবসময়।

গুণী এই অভিনেতা শুধু নাটক, মঞ্চ নয় অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও। ষাটের দশক থেকে তিনি অভিনয় শুরু করেন। তিনি অভিনয় জগতে পা রাখেন যাত্রামঞ্চের মাধ্যমে। ষাটের দশক থেকেই ঢাকার ক্লাব ও অফিসের সৌখিন নাটকে তিনি অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। তার পরিচালনায় মঞ্চে বহু নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। অবসর, শৈবাল, রংধনু প্রভৃতি নাট্যদলের সংগে তিনি জড়িত ছিলেন। বড়পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণও করেছেন।

ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির ‘নানা’ চরিত্রে অভিনয় করে অমল বোস সারাদেশে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এতে ‘নানা-নাতি’র নাট্যাংশে নানা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলমান সময়ের নানা অসংগতি তুলে ধরতেন তিনি। ১৯৬৬ সালে ‘রাজা সন্ন্যাসী’ ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেছিলেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে রাজা সন্নাসী, মহুয়া, নীল আকাশের নিচে, শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, সোনালী আকাশ, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, গুনাই বিবি, রাজলক্ষী-শ্রীকান্ত, বিয়ের ফুল, মিলন হবে কতো দিনে, তোমাকে চাই, হঠাৎ বৃষ্টি, রং নাম্বার প্রভৃতি।

সর্বশেষ তিনি অনিমেষ আইচ পরিচালিত নির্মাণাধীন ‘না-মানুষ’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নেন। এই ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার জন্য তার কুষ্টিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কুষ্টিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মাঝেই তার জীবনের দীপ নিভে যায়। সেই ছবিতে আর তার কাজ করা হয় নি।

এছাড়াও অভিনয়ের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন অমল বোস। ‘কেন এমন হয়’ নামের এই ছবিটি তিনি পরিচালনা করেন সত্তরের দশকে।

অমল বোস ১৯৪৩ সালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। একাধারে মঞ্চ, টিভি, চলচ্চিত্র ও বেতার জগতে পদচারণা ছিল। সেই সুবাদে ঢাকাতেই জীবনের সিংহভাগ সময় কাটিয়েছেন। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিল তার স্ত্রী স্বাতী বোস, একমাত্র মেয়ে মন্দিরা বোস ও মেয়ের জামাই ইন্দ্রজিৎ সরকার। অমল বোস তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নব্বইয়ের দশকে পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম নির্মিত ‘আজকের প্রতিবাদ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: