তরুণীকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে কুপ্রস্তাব, এরপর...

২৪ জানুয়ারি ২০১৯ , ০৬:২৩:১৯

ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় প্রকাশ্যে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে এক যুবক। শুধু তাই নয়, আলমগীর নামের ওই যুবক তরুণীকে শারীরিকভাবে আঘাতও করে। পরে পুলিশের সহায়তায় রক্ষা পান ওই তরুণী। এ ঘটনায় বনানী থানায় শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন ঘটনার শিকার তরুণী। 

গতকাল রাজধানীর আমতলী বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। অফিসের নিজস্ব পরিবহনের গাড়ি মিস করায় আমতলী ক্রসিং এলাকার পূর্ব পাশের একটি চা দোকানের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

তরুণীকে একা পেয়ে যুবক আলমগীর এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ও কুপ্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে তরুণীর শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে মেয়েটির নাকে ও মুখে ঘুষি মারে। বাধা দিতে গেলে মাটিতে পড়ে যান নারী। আলমগীর এ সময় হাতের পাশে থাকা লাঠি দিয়ে মেয়েটিকে গুরুতর আঘাত করে। কিছুক্ষণ পরে আলমগীরের আরেক সহোদর ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। মামলার এজাহারে এসব কথা বর্ণনা করেছেন ওই তরুণী। এমন সময় পাশ দিয়েই যাওয়া টহল গাড়িতে থাকা ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তাপস কুমার সাহা ও তার সহযোগী পুলিশ সদস্যরা তরুণীকে উদ্ধার করেন। অভিযুক্ত আলমগীর ও তার ভাইকে আটক করে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকায় আলমগীরের ভাইকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। 

আর দোষী আলমগীরের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে বনানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন তরুণী। মামলার আগে গুরুতর আহত হওয়ায় তরুণীকে চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তাপস কুমার সাহা।  ঠোঁটে ও মুখে আঘাত পাওয়ায় ৫টি সেলাই দেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বনানী থানায় নিয়ে যান ক্যান্টনমেন্ট জোনের এডিসি তাপস কুমার সাহা। টেলিভিশন চ্যানেলটির মানবসম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা এসব কথা জানান।

তাপস কুমার সাহা জানান, রাতে গুলশান বিভাগের ছয়টি থানা এলাকা পরিদর্শনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বুধবার ভোরবেলা পেশাগত কাজে টহল গাড়িসহ মহাখালী হয়ে গুলশান যাচ্ছিলেন তিনি। আমতলী এলাকায় নারীর চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে দেখেন এক যুবক নারীকে মারধর করছে। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় আলমগীর নামে ওই যুবক ও তার ভাইকে বনানী থানায় আটক করে নিয়ে যান এই পুলিশ কর্মকর্তা। 

মামলার এজাহারে জানা গেছে, মো. আলমগীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে থাকে। সেখানকার কাছের কাঁচাবাজারেই ব্যবসা আছে তার। শেরপুর সদরের খড়গড়িয়া এলাকায় গ্রামের বাড়ি আলমগীরের। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১০ ধারা ও পেনাল কোডের ৩২৩ ও ৩২৫ দুই ধারায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকালে আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। সূত্র: মানবজমিন

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: