সম্পাদনা: মো: হৃদয় আলম

ডেস্ক এডিটর

কেন সৌদি থেকে পালাচ্ছেন নারীরা?

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৩৭:০০

ছবি : ইন্টারনেট থেকে

ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বেশ কঠোর হয়েছে সৌদি সরকার। কিন্তু রক্ষণশীল দেশটির শৃঙ্খলিত জীবন থেকে মুক্তি পেতে শত শত তরুণী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন।

এদেরই একজন চলতি মাসেই ঘরপালানো আঠারো বছরের সৌদি তরুণী রাহাফ মোহাম্মেদ আল-কুনুন। তাকে নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধমে বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু যুক্তরাজ্যতে প্রতিবছর কয়েক ডজন সৌদি তরুনী আশ্রয় নিতে দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যান। তাদের অভিযোগ তারা দেশে পরিবার ও রাষ্ট্রের দ্বারা নানারকম নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার। আর তারা একবার সৌদি ছেড়ে পালাতে পারলে আর দেশে ফিরতে চান না।

বিবিসির প্রতিনিধি হানান রাজাক সৌদি থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়া দুই তরুণীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, দেশ ছেড়ে পালাতে তারা কীভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।

সৌদি থেকে পালিয়ে আসা রাওয়ান (ছদ্মনাম) নামের এক তরুণী বলেন, ‘আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু আমাকে ধর্মের বিভিন্ন রীতি পালনে বাধ্য করা হতো। আমার বাবাই আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতেন। একদিন আমি আমার পরিবারসহ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে ছিলাম। আমার হাতে খুব অল্প সময় ছিল পালানোর। তখনই আমি পালিয়ে যাই।’

রাওয়ান নামের ওই তরুণী জানান, শত শত সৌদি তরুণী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে তাদের পরিবারের জবরদস্তিমূলক বিভিন্ন নির্যাতন। যার কারণে অনেকে নিজেদের ছোট ভাবতে শুরু করেন। তাছাড়া স্কুল-কলেজ-বিবাহ-পড়াশোনা কিংবা বাড়ির বাইরে কোথাও যাওয়াসহ কোনো বিষয়েই নারীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকে না।

রাওয়ান তার পালিয়ে আসার ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘আমার পরিবারের যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা শুনে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করি। হিথ্রো বিমানবন্দরে যখন আমার পরিবারের সদস্যরা টয়লেট ব্যবহার করতে যায় ঠিক তখনই আমার হাতে সুযোগ আসে। আমি ভাবতে থাকি আমার হাতে অল্প কয়েক মিনিট সময় আছে শুধু। আশ্রয় চেয়ে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেই।’

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: