প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

‘চাপ দেওয়া নিয়েই পুলিশের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা’

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , ০৯:১৮:৫০

ছবি: ইন্টারনেট।

শরাফুল আলম সুমন নামের এক ব্যক্তি তল্লাশির নামে পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালী-গুলশান সড়কের একটি চেকপোস্টে তিনি এ হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তার সেই পোস্টটি নিয়ে গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। 

চেকপোস্টে শরীর তল্লাশির সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বাজেভাবে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সুমন। একইসঙ্গে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

তবে পুলিশ বলছে, ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।       

ঘটনা সম্পর্কে যা বললেন পুলিশ কর্মকর্তা    

এই বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, 'অভিযোগকারী (শরাফুল আলম সুমন) ও পুলিশ সদস্যদের সবার বক্তব্যই শুনেছি। তবে আমার কাছে প্রাথমিকভাবে এটা মনে হচ্ছে যে, ঘটনাটি শুধুমাত্র ভুলবোঝাবুঝি। সিগারেট হাতে নিয়ে ওই ব্যক্তি চেকপোস্ট পার হওয়ার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সাদস্যরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি করতে চায়। তখন ওই ব্যক্তি বলেছেন, “আমার হাতে থাকা সিগারেটটা খেয়ে নিই; আমাকে ২ মিনিট সময় দেন।” তখন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে সময় দেয়।’

ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সিগারেট শেষ করার পরে তার ম্যানিবাগ ও ব্যাগ চেক করে পুলিশ সদস্যরা। ওই ব্যক্তি নিজেই তার ম্যানিবাগ ও ব্যাগ খুলে পুলিশকে দেখান। এরপর পুলিশ তার শরীর তল্লাশি করে। তার শরীর তল্লাশি করার সময় তিনি দায়িত্বরত পুলিশকে বলেছেন, “চেক করবেন করেন, চাপ দেন কেন?” তখন ওই পুলিশ সদস্য বলেছে, “পকেটে কী আছে-না আছে সেটা তো হাত দিয়ে দেখতে হয়।” তখন ওই ব্যক্তি বলেছেন, “না, আপনি এভাবে দেখতে পারেন না।” এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। ওই ব্যক্তির ভাষ্যমতে, তখন  সেখানে দায়িত্ব পালনকারী উপপরিদর্শক (এসআই) কাদিরকে ঘটনাটি জানান তিনি। সব কিছু শুনে এসআই তাকে বলেছে, আপনি তো মেয়ে নয়, আপনাকে চাপ দিলে সমস্যা কী?’

শরাফুল আলম সুমনের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘ওই ব্যক্তির ভাষ্য যে, এই কথা বলে এসআই নাকি তাকে মারতে চাইছে, তার দিকে আঙুল তুলেছে। তখন ওই ব্যক্তিও পুলিশ সদস্যদের দিকে আঙুল তুলে বলেছে, “আপনারা এমনটা করতে পারেন না।” তখন পুলিশরা বলেছে, “আপনাকে খারাপ আচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হলো।” এই কথা বলে তাকে পুলিশ বক্সে নিয়ে যেতে চাইলে, তিনি পুলিশ বক্সে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সাথে তার ধ্বস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। তারপর তাকে পুলিশ বক্সে নিয়ে বাসানো হয়েছে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, 'রাতেই আমি এই ঘটনাটি শুনে সেখানে আমার একজন অফিসারকে পাঁঠিয়েছিলাম। তিনি দুজনের বক্তব্য শুনে ঘটনাটি মিটমাট করে দিয়েছেন। সেখানে দুজন দুজনকে সরি বলেই চলে গেছে। এরপর ওই ব্যক্তিকে আমি একটা লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম, তিনি সেটা দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। আমি সেটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দিয়েছি। এটার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্তে যদি আমার পুলিশ সদস্যের কোনো দোষ প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শরাফুল আলম সুমন    

তল্লাশির নামে পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সুমন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ করেন।   

১। প্রথমত তিনি শারীরিকভাবে অপমান করেছে এবং এই নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নয়।

২। তিনি আমার বাবা মাকে গালি দিয়েছেন।

৩। তিনি প্রকাশ্যে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।

৪। তিনি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে ক্রাইম করেছেন।

৫। তিনি কোনো প্রকার আইনগত নির্দেশনা ছাড়াই আমাকে পিটিয়েছেন যার নিশানা আমার শরীরে লেগে আছে।

৬। তিনি সব কিছু অস্বীকার করে মিথ্যা বয়ান দিয়েছেন সিনিয়রের কাছে।

‘কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, তা আমি জানি না’

শরাফুল আলম সুমনকে পুলিশ বক্স থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া চলচ্চিত্র পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খান দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘সুমনের ফোন পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে উপস্থিত হওয়ার পরে আমি ওর (সুমন) মুখ থেকে এক রকম কথা শুনেছি। আবার উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মুখ থেকে আরেক রকম কথা শুনেছি। তাই কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, তা আমি জানি না। তবে আসল বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

বিডি২৪লাইভ/এসএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: