রাজনীতিতে ঝড়ের পূর্বাভাস!

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , ১২:৫৬:১৩

ছবি: ইন্টারনেট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে শীতল হাওয়া বইতে শুরু করেছে, এটা ঝড়ের পূর্বাভাস কী না তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হবে, না শীতল অবস্থা বিরাজ করবে, এখনি বলা যাচ্ছে না অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেয়ার সংস্কৃতি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে আজও তৈরি হয়নি। কারণ নির্বাচন ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি। দেশের প্রধন দুই রাজনৈতিক জোটের মাঝে বৈরিতা ক্রমেই বাড়ছে তার উপর নতুন করে তিক্ত সমস্যায় পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়মী লীগ। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের শরীকদের আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পর রাঘডাক ছাড়াই ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সত্যিই কী রাজনীতিতে ঝড়ের পূর্বাভাসের ইঙ্গিত? এ প্রশ্ন এখন সবার মাঝে।

ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার মতো হতে পারে। দেশটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। বাংলাদেশে বাইরের কেউ হস্তক্ষেপ করেনি, বরং শেখ হাসিনা সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশি রাষ্ট্র থেকে শুরু করে পশ্চিমা বিশ্ব। তারপরও ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম নেতা বিদায়ী মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ভেনেজুয়েলার প্রতিধ্বনি শুনতে পেলেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। এটি ঝড়ের পূর্বাভাস কি না সেই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎই দিতে পারে। তার এই বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোন নেতা মন্তব্য করেনি।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শরীকদের মাঝে এক ধরণের হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যা তাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত (রাজনীতির) জল কোথায় গিয়ে গড়ায়? জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী জোটের মাঝে যেমন অসন্তুষ্টু রয়েছে এখন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক নেতাদের মাঝে দৃশ্যমান। এ নিয়ে রাজনীতিতে নতুন করে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া কেউ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেনি অভিযোগ বিরোধীদল ও সুশীল সমাজের। খোদ আওয়মী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে এক সংবাদ সম্মোলনে বলেছেন, বিশ্বের কোথাও ১০০ ভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তার নজির নেই। ডালাও ভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে, তবে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সুষ্ঠু নির্বাচন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। যা অনেকে মেনে নিতে পাচ্ছে না। তবে তার বক্তব্যের উল্টো সুরে গাইলেন ক্ষমতাসীন জোটের শরীক দল বাংলাদেশ জাসদ এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে কোন নির্বাচনই হয়নি। ২৯ ডিসেম্বর রাতে সরাকারের অতিউৎসাহী লোকজন রাতের আধারেই জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দিয়েছেন। এই সরকার জনগণের ভোটে নয় রাতের আধারে প্রশাসন যন্ত্রের মাধ্যমে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের কোন নেতা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নই।

এদিকে আওয়মী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব চায় ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা যেন সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে। কারণ তিনি সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা। এখন দেখার বিষয় কী প্রতিক্রিয় হয়? তবে ইতোমধ্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকবো অন্য কোথাও থাকবো তা আওয়ামী লীগ ঠিক করে দেয়ার কে? আমরা জাতীয় পার্টি নয় যখন যা বলবে তাই করতে হবে। সত্যি সত্যি যদি এরশাদের নেতৃত্বে মেনে নিতে হয় বাম নেতাদের তবে রাজনীতিতে কী হাওয়া বইবে বিএনপি ছাড়া এই সংসদে তা বলা মুশকিল! সামনে রাজনীতি মাঠে কী ঝড় অপেক্ষা করছে তা সময় বলে দিবে বলেও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ দলীয় জোটের এক নেতা।

বিডি২৪লাইভ/এসবি/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: