সম্পাদনা: শাহরিয়ার আলম

ডেস্ক এডিটর

এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী মা-মেয়ে-নাতনি!

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৪৯:১৬

ছবি: ইন্টারনেট

জীবনে উন্নতি ও সফলতার জন্য যেমন সঠিক লক্ষ্য ঠিক করে অধ্যবসায় ও সাধনাতেই মেলে ভবিষ্যৎ। তেমনি যুগ পাল্টানোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে মানুষের মনেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। নিজেকে পাল্টাতে এবার মা, মেয়ে ও নাতনি একই সঙ্গে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার পলাশি থানার জানকিনগর হাই মাদ্রাসায় থেকে মা সাবিনা ইয়াসমিন, মেয়ে শাহনাওয়াজ খাতুন ও সম্পর্কে নাতনি মাসনুহার খাতুন। এ তিনজনই মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তারা তকিপুর হাই মাদ্রাসার ছাত্রী।

মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, নদিয়া জেলার পলসন্ডার বারুইপুরে ছোটবেলা কেটেছে। অষ্টম শ্রেণি পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়ির আর্থিক দৈন্যতার কারণে চাষাবাদ করে তাদের সংসার কোনোভাবে চলত। মাধ্যমিক পাস না করায় কোনো জায়গায় চাকরির সুযোগ মিলত না। তাই মনের জিদে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পড়াশোনাটা আবার শুরু করি। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর মেয়ের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে হই। মায়ের প্রবল আগ্রহ দেখে স্কুলের শিক্ষকরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তার সংসার চলে সমান তালে।

পড়াশোনার ব্যাপারে মা সাবিনার কাছে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক পাস না করার ফলে আমি অনেক চাকরি হারিয়েছি। তাই ভাবলাম, একটু চেষ্টা করে দেখি না।

এ ব্যাপারে তার মেয়ে শাহনাওয়াজ বলেন, মায়ের ইচ্ছা ছিল মাধ্যমিক পাস করা। এ জন্য দুজনে একসঙ্গে স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করি। একই সঙ্গে ভাশুরের নাতনি মাসনুহার খাতুন পড়াশোনা করে।

নাতনি জানায়, দিদা তো পড়াশোনা করার এত বেশি সময় পান না। আমরা প্রাইভেট পড়ে আসি, দিদা সেই খাতা দেখে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে রপ্ত করে ফেলে।

মায়ের এই ইচ্ছাশক্তি দেখে শিক্ষক মহ. মোতালেব মণ্ডল বলেন, 'সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। সে দিক থেকে বিচার করলে সাবিনা সবার কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।'

বিডি২৪লাইভ/এসএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: