প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

গুরুদাসপুরে উপজেলা নির্বাচন 

নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বি এমপির পালিতপুত্র!

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , ০২:১২:০০

ছবি: প্রতিনিধি।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের পালিতপুত্র মো. আনোয়ার হোসেন। এলাকায় আনোয়ার হোসেন এমপির ছেলে হিসেবে পরিচিত হলেও তার পিতার নাম হাজী মো. আহসান সরকার।

এই পদে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও আলোচনায় রয়েছেন জাহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন। আলোচনার উত্তাপ থাকায় দুই প্রার্থীকে নিয়ে গুরুদাসপুর আওয়ামী লীগে আবারো কোন্দল প্রকাশ্য রুপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন দলের নেতা কর্মীরা।

স্থানীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বর্তমান গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না চেয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের পক্ষে নির্বাচন করে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করেন। বিষয়টি বিবেচনা করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকেই দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে আনোয়ার হোসেন এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। কিন্তু জাহিদুল ইসলামের বিপরীতে আনোয়ার হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করায় আব্দুল কুদ্দুস এমপির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন অনেকেই।

দলীয় প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দলীয়ভাবে তাকে নৌকা প্রতিক দিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। অথচ শেখ হাসিনার মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে আব্দুল কুদ্দুস এমপি তার পালিত পুত্র আনোয়ারকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সবারই নৌকার জন্য ভোট করা উচিত।’
 
এছাড়া আব্দুল কুদ্দুস পরবর্তীতে তার মেয়েকে এমপি বানাবেন এবং ছেলেকে মেয়র বানিয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েম করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। বিশেষ করে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আমার অনুদান রয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। মানুষ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। ১০ মার্চের ভোটে জনতার রায় নিয়ে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’

অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি বলেন, ‘জাহিদুল ইসলাম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার বিপক্ষে এশারত আলীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে ছিলেন। কিন্তু অনোয়ার হোসেনকে আমি নয় জনগণই প্রার্থী করেছে।’ 

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: