প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

পাকিস্তানের সেনা হাসপাতালে শুয়েই হামলার নির্দেশ দেয় মাসুদ আজহার

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , ০২:৪৯:৩৩

ছবি: ইন্টারনেট

গত কয়েক মাস ধরেই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের অসুস্থ থাকার খবর প্রকাশ্যে আসছিল। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জিহাদি সংগঠন ইউজেসি বা ‘ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল’-এর বৈঠকেও নাকি দেখা যাচ্ছিল না। অথচ তারই নির্দেশে কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলা এই শীর্ষ জঙ্গিনেতার অস্তিত্বের প্রমাণ দিল। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

সূত্রের খবর, বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে মাসুদ আজহারের। গত চার মাস ধরেই সেখানে ভর্তি সে। পুলওয়ামায় হামলার আট দিন আগে একটি অডিও মেসেজ শোনা যায় মাসুদ আজহারের গলায়। ভাইপো উসমানের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার বার্তা শোনা গিয়েছিল তার গলায়। গত অক্টোবরে ত্রালে নিকেশ করা হয় উসমানকে।

সংগঠনের কর্মীদের সে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলে, ‘কেউ বলবে জঙ্গি হামলা, কেউ বলছে শান্তির পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সীমান্ত পার করে হামলা চালাতেই হবে।’

ইউজেসি-র অন্যান্য সদস্যদের এই পরিকল্পনার কথা বলেনি মাসু আজহার। গোপনে তার আর এক ভাইপো মহম্মদ উমের ও আব্দুল রশিদ গাজীকে নির্দেশ দিয়েছিল যাতে ওই অডিও মেসেজ ছড়িয়ে মগজধোলাইয়ের কাজ শুরু করে তারা।

কাশ্মীরের এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, দক্ষিণ কাশ্মীরে লুকিয়ে আছে জঙ্গিরা। রয়েছে তিন নেতা উমের, ইসলামইল ও আব্দুল রশিদ গাজী। কাশ্মীরে অন্তত ৬০ জইশ জঙ্গি রয়েছে বলেও সূত্রের খবর। এর মধ্যে ৩৫ জন পাকিস্তানি।

মাসুদ অসুস্থ হলেও জইশের ভারত বিরোধী কার্যকলাপে কোনও ভাটা পড়েনি৷ কেননা তার অবর্তমানে সংগঠনের দায়িত্ব বর্তেছে দুই ভাই আসগর ও ইব্রাহিমের উপর৷ আসগরকে দেওয়া হয়েছে ভারতে নাশকতামূলক অপারেশন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার৷ ইব্রাহিমকে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের দায়িত্ব৷

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ৫০ বছরের আজহার স্পাইলান কর্ড ও কিডনির রোগে আক্রান্ত৷ এক বছরের বেশি সময় রাওয়ালপিন্ডির মিলিটারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে৷ কিন্তু এখন মাসুদের যা শারীরিক অবস্থা তাতে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই খুব ক্ষীণ৷

ভারতে একাধিক জঙ্গি নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত আজহার৷ তাকে গ্রেফতারও করা হয়৷ কিন্তু ১৯৯৯ সালে কান্দাহার বিমান হাইজ্যাকের পর তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন ভারত সরকার৷ ছাড়া পেয়েই ভারতের বুকে একের পর এক জঙ্গি হামলা করে মাসুদ৷ যার মধ্যে অন্যতম ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০০৫ সালে অযোধ্যা হামলা ও সাম্প্রতিক কালে ২০১৬ সালে পাঠানকোট বায়ুসেনা ছাউনিতে হামলা৷

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: