রফিকুল ইসলাম

বান্দরবন প্রতিনিধি

বিলুপ্ত প্রজাতির কাঠ পাচার

লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:২৩:০০

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামায় বেশ কয়েকটি স্থানে পাচারের জন্য মজুদ করা হয়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির সহস্রাধিক ঘনফুট শিউরি কাঠ। মজুদকৃত কাঠের নেই চলাচল পাস বা পারমিট। অবৈধভাবে রাতের আধাঁরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কাঠ গুলো নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে ব্যবসায়ীদের দফারফা চলছে বলেও জানা যায়।

প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে অবৈধ কাঠগুলো রাখা হলেও বন বিভাগের লোকজন তা দেখছেন না!

সূত্র মতে, শিউরি ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত কাঠ। এলাকাতে লালি কাঠ নামে পরিচিত এই গাছটি। অনেকে এই গাছটিকে সিরাইজ্জা গাছ হিসেবেও চিনে। বিশেষ করে সমুদ্রে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় এই কাঠের ব্যবহার হয়।

অনেকে বাড়ির কাজেও শিউরি কাঠ ব্যবহার করেন।

সি শ্রেণীভুক্ত কাঠ হলেও শিউরি অত্যান্ত শক্ত প্রজাতির কাঠ। প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ে এই কাঠের জন্ম হয়ে থাকে।

বেপরোয়াভাবে বন উজাড়ের কারণে আজ শিউরি কাঠ বিলুপ্তির পথে।

লামা বন বিভাগের তথ্য মতে লামা সদর রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানে বর্তমানে শিউরি গাছের কোন জোত পারমিট দেয়া হয়নি।

পাচারের জন্য মজুদ শিউরি কাঠগুলো লামা সদর রেঞ্জের আওতাধীন পোপা মৌজা হতে কাটা হয়েছে বলে জানান, গাছের মালিক কাঠ ব্যবসায়ী সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা এলাকার মো. মাবুদ।

তিনি গাছগুলোর পারমিট নেই বলে স্বীকার করেন।

স্থানীয়রা বলছেন রাতের আধাঁরে কাঠগুলো আনা হয়েছে আবার রাতের আধাঁরে সবাইকে ম্যানেজ করেই চলে যাবে কাঠগুলো। দুর্বল তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে হুমকির মুখে দেশীয় প্রজাতির গাছপালা।

অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।

প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ রক্ষায় লামার লুলাইং, লেমুপালং, লামা, পোপা, নাইক্ষ্যং, লৈক্ষ্যং, বড় বমু ও সাঙ্গু মৌজায় সকল প্রকার জোত পারমিট ইস্যু বন্ধ রাখতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লামা পৌরসভার লামামুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালের পাশে ১০ থেকে ১৫ ফুট লম্বা বড় সাইজের ৬১ টুকরা শিউরি কাঠ, লামামুখ মসজিদের সামনে মাঠে ৬৮ টুকরা, রাজবাড়ি হেফজখানার সামনে ৩৫ টুকরা, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী বরিশাল পাড়ার কালামের বাড়ির পাশে রাস্তায় ১৫ টুকরা ও লামা সদর ইউনিয়নের বৈল্ল্যারচর বশির কারবারীর বাড়ির পাশে ৯ টুকরা বিলুপ্ত প্রজাতির শিউরি কাঠ পাচারের জন্য মজুদ করা হয়েছে।

পাঁচটি স্থানে মজুদ মোট ১৮৮ টুকরা শিউরি গাছে প্রায় ১২’শ ঘনফুট কাঠ হতে পারে। গাছগুলো দুর্গম এলাকা হতে হাতি দিয়ে পরিবহন করে গাড়ি পয়েন্টে এনে উল্লেখিত স্থানে রাখা হয়। যার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কাঠের মালিক দাবিদার মো. মাবুদ।

তবে মাবুদের পিছনে বড় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও জানায় অনেকে।

এই গাছ পাচার চক্রটি প্রায় সময় নিষিদ্ধ প্রজাতির চাম্পাফুল, গোদা ও গুটগুটিয়া কাঠ পাচার করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উদ্বেগের বিষয় হল লামা উপজেলার দুর্গম লুলাইং, লেমুপালং, পোপা, নাইক্ষ্যং ও লৈক্ষ্যং মৌজায় হাতি দিয়ে গাছ টানা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা সদর রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন বিডি২৪লাইভকে বলেন, জনবল সংকটের কারণে তদারকি করা সম্ভব হয়না। লামা সদর রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে শিউরি বা সিরাইজ্জা গাছের কোন পারমিট নেই।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: