রাসেল ইসলাম

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরে হুইপ ইকবাল রহিমকে গণসংবর্ধনা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:৫৮:০০

ছবি : প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম বলেন, দিনাজপুরের মানুষ এতটা ভালোবাসে, এতটা ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাবে আমি যখন ঢাকা থেকে আসছিলাম তখনও বুঝতে পারি নি। আমরা দিনাজপুরের মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি শুধু আমাকে হুইপ করেন নি। তিনি আমাকে হুইপ বানানোর মধ্যদিয়ে দিনাজপুর বাসীকে সম্মানিত করেছেন। এই দিনাজপুরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সমস্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকায়, বঙ্গবন্ধুর নৌকায়, শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনাজপুর বাসীকে বঞ্চিত করেন নি। আমাকে দ্বিতীয় বারের মতো হুইপ নির্বাচিত করেছেন, বিরল বোচাগঞ্জের এমপি খালিদ মাহমুদকে প্রতিমন্ত্রী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমানকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সভাপতি বানিয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

ইকবালুর রহিম আরও বলেন, দিনাজপুরের মানুষ যে, ভালোবাসা প্রকাশ করলেন আমি মনে করি তারা আমার প্রতি নয় এই ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। এই ভালোবাসা, এই আদর, এই শ্রদ্ধা, এই ফুল সব কিছু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। এটা প্রধানমন্ত্রীর পাওনা আমার পাওনা নয়। আমি স্বপ্ন দেখা মানুষ।

ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম আজাদ বলেছেন, মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, তা স্বপ্ন নয়, জেগে জেগে যে স্বপ্ন দেখে সেটাই স্বপ্ন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনিও জেগে জেগে স্বপ্ন দেখেন এবং আমাদেরও জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা শিখিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের বিস্ময়। আজকের এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের বাংলাদেশ, আজকের এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। আজকের এই বাংলাদেশকে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক ভাবে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ মানবতার মা হিসাবে স্বকৃতি দিয়েছে। আজকে শেখ হাসিনাকে বিশ্ব শান্তি পদক দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি, শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হউক, শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত আমেরিকা, চীন, জাপান, রাশিয়া ও ফ্রান্সের মত একটি উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাবে। আমরা সেই লক্ষ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় চেষ্টা করেছিলাম। বিগত ১০ বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে আমার দিনাজপুরের মানুষের জীবন মানের পরিবর্তন ঘটানোর। এক সময় যে দিনাজপুরে ২২ ঘণ্টার লোডশেডিং থাকত প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ করে দিনাজপুরকে লোডশেডিং এর আওতামুক্ত করেছি, আজকের দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল সারা বাংলাদেশের মধ্যে হুয়ের জরিপে চিকিৎসা সেবায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। আজকে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ঈদগা মিনার বিশ্ব মুসলিম উম্মার কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম রাবার ড্যামের মধ্যদিয়ে আমাদের কৃষি ব্যবস্থার মধ্যে বৈল্পবিক পরিবর্তন এসেছে। দিনাজপুরে ৮৮ হাজার ২২২টি বাড়িতে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের উত্তরবঙ্গের নয়, বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ছাত্রছাত্রী থেকে এখন প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। যার মধ্যে ২৫০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন করার জন্য, আরও নতুন নতুন অনুষদ করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, আমি স্বপ্ন দেখা মানুষ। আমি নির্বাচনের পর এলাকায় আসতে পারিনি রাষ্ট্রীয় কাজের জন্য। দিনাজপুরের মানুষের ভালোবাসার কারণে আজ ছুটে এসেছি। আমি যখন এমপি হলাম তখন দিনাজপুরের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কারণ দিনাজপুরের স্পন্ধন হল সদর আসন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দ্বিতীয় বারের মত হুইপ নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে তা পূরণ করেছেন।

হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, রাজনীতি একদিনের নয়, রাজনীতি হচ্ছে দীর্ঘদিনের চলার পথ। রাজনীতিতে উত্থান পতন আছে। আমাদের দিনাজপুরের রাজনীতিতে অনেকে এসেছিলেন, অনেকে ইতিহাসের আস্তা কুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা যদি সঠিক ভাবে পথ চলতে না পারি, আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা মুখে না, কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে না পারি, শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে নির্দেশনা অনুয়ায়ী আমরা সংসদ সদস্যরা, হুইপরা, মন্ত্রীরা চলতে না পারি, তাহলে আরও ইতিহাসের আস্তা কুড়ে নিক্ষিপ্ত হবো। আমরা জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, দিনাজপুর একটি সম্ভাবনাময় জেলা, আমি সম্ভাবনা দেখি দিনাজপুর নিয়ে, আমি স্বপ্ন দেখি দিনাজপুরের তরুণ সমাজ নিয়ে এবং সেই লক্ষে আমি নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম দিনাজপুরে একটি অর্থনৈতিক জোন করা হবে। ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রক্রিয়া শেষের পথে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা ১০ মাইলে প্রায় ৪‘শ একর জায়গা জুড়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি নির্মাণ করতে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অচিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে তা উদ্বোধন করবেন। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হলে এখানে প্রায় সাড়ে ৩‘শ কল কারখানা হবে। দিনাজপুরের হাজার হাজার যুবদের কর্মসংস্থান হবে। শুধু সদর উপজেলার নয় ১৩টি উপজেলার মানুষ এখানে চাকবি করবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুয়ায়ী অগ্রাধিকার ভিক্তিতে আমরা চাকরি ব্যবস্থা করব।

দিনাজপুরের কাশিপুর এলাকায় ৩ একর জমি ক্রয় করে আইটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যদিয়ে এই অঞ্চলের বেকার যুবরা তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান আরহণ করে বিশ্বের নানা মূখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজেদেরকে বিশ্বমানের যোগ্য করে গড়ে তুলে চাকরির সুযোগ পাবে। এই আইটি পার্কও চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর অনেক পুরোনো শহর। রাস্তা-ঘাট ও ভবন গুলো অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছিল। তাই দিনাজপুরে এখন অনেক যানজট। এই শহর নিয়ে মাস্টার প্লান করা হয়েছে। বিরল স্থলবন্দর থেকে মহনপুর পর্যন্ত একটি বাইপাস ও দশমাইল থেকে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে বটতলি দিয়ে কাউগা মোড় পর্যন্ত আরেকটি ফোর লেন রাস্তা করার জন্য ইতোমধ্যে ডিও দিয়েছি। দিনাজপুর শহরের রাস্তা গুলোও প্রসস্ত করা হবে। রংপুর, বগুড়া ও রাজশাহী শহর প্রসস্ত হয়েছে। কিন্তু দিনাজপুর শহরে যানজটের কারণে আমরা চলা ফেরা করতে পারি না। দিনাজপুরের মানুষের ১০ বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছে।

দিনাজপুরের মানুষ এখন অনেক স্বচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করছে। জীবন যাত্রার উন্নয় হয়েছে। গ্রামগুলো আর গ্রাম নেই। শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুয়ায়ী আমিও গ্রাম গুলোকে শহরে পরিণত করতে চাই। সেই জন্য আপনাদের সহযোগীতা করতে চাই। আমি দিনাজপুর শহরের প্রত্যেকটি রাস্তাকে ফোর লেন পরিণত করতে চাই।

এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের সহযোগীতা চাইলে সবাই হাত তুলে সহযোগীতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এতে সাময়িক কষ্ট হবে। দিনাজপুরকে একটি সুন্দর শহর, পরিচ্ছন্ন শহর, যানজট মুক্ত শহর, পর্যটন শহরে পরিণত করার জন্য আমাদেরকে ত্যাগ শিকার করতে হবে। দিনাজপুরের রামসাগরকে পর্যটন আকর্ষণ করার জন্য পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। সেখানে একটি পর্যটন মটেল নির্মাণ করা হবে। শিমু পার্কের আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা রয়েছে দিনাজপুরের নাগরিক, শিক্ষিত সমাজ, শুধি সমাজের সঙ্গে বৈঠক করে আপনাদের পরামর্শ করে এই শহরটি যেন বাংলাদেশের অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ মডেল শহরে পরিণত হয় সে জন্য পরিকল্পনা করব। তিনি বলেন, আমি যেন আপনাদের সেবা করতে পারি এজন্য আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। এ সময় তিনি সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হাত তুলে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার আওয়ামী লীগের যে সকল মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের সকলের জন্য দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের জন্য মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গণ সংবর্ধনা উদযাপন কমিটির আহবায়ক দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, দিনাজপুর হাজী মোহাম্ম দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল কাশেম, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. নুরুজ্জামান জাহানী, উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম, বিএমএর সভাপতি ডা: এস এম ওয়ারেস সরকার, নাগরিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সফিকুল হক ছুটু, চেম্বারের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বরুপ বকসি বাচ্চু, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওযাহেদুল আলম আর্টিস্ট, প্রবীণ আইনজীবী আজিজুল ইসলাম জুগলু প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্ত ঘোষ। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের মানুষ, সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ হুইপকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: