অশ্লীলতার আরেক নাম ভাদাইমা!

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৩৪:৩৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে মডেল সানাই এবং ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ। এমনকি এই দুজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর অশ্লীল ভিডিও প্রচার করবে না এমন শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সালমান মুক্তাদির ও সানাইয়ের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া পাড়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই আরেক অশ্লীলতার খোঁজ মিলেছে। ডিজিটাল ‘ভাদাইমা’ নামে কিছু অভিনেতা মেয়েদের নিয়ে নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ কিছু শর্ট ফিল্ম তৈরী করে তা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করছে।

সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহল স্যোসাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাদের দাবি, এসব অশ্লীল ভিডিও প্রকাশের কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। শিশু-কিশোরদের মস্তিস্ক বিকৃত হচ্ছে। তাই এসব বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি এসব বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চায় সাধারণ মানুষ।

উত্তর বঙ্গের কিছু গ্রামে প্রকাশ্যে তৈরি করা হয় এসব অশ্লীল ভিডিও। অশ্লীলতাকে পুঁজি করে অর্থ আয়ের পথ হিসেবে অনেকে বেছে নিয়েছে এই অশ্লীলতাকে। যারা কথিত অভিনেত্রীদের দিয়ে প্রকাশ্যে অর্ধনগ্ন করে এসব ভিডিও তৈরি করছে।

ওইসব অশ্লীল ভিডিও-এর অধিকাংশ প্রকাশ করে এন মিউজিক সেন্টার নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল। ওই চ্যানেলের মালিক নয়ন বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমরা তো সরাসরি তৈরি করি না এই ভিডিও। যারা তৈরি করে তাদেরকে বলেন। আমরা তো টাকা দিয়ে কিনে প্রকাশ করছি মাত্র।

ইতোমধ্যে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই কথিত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার কিছু অংশ বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল:-

স্বপ্নিল নামে ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়েছে, সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,, দয়া করে এই পোষ্ট টা সবাই শেয়ার করবেন,, যাতে এটা সমাজের উচ্চপদস্থ বিবেকবান মানুষের কাছে পৌছায়, পাশাপাশি আইনের লোকের নজরে পরে,, বাদাইমা সহ বাদাইমা মার্কা কিছু ফালতু অভিনেতা অভিনেত্রী আছে যারা অশ্লীল ভিডিও আর অশ্লীল ভাষা ব্যাবহার করে কমিডি করতে আছে, যা আমাদের সমাজের জন্য খুবই খারাপ, এদের কারনে প্রতিনিয়ত নস্ট হচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চারা,, এই সব নাটক কমেডি ফিল্ম যারা তৈরী করেন, এর সাথের সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া উচিত এবং এইসব বন্ধের জন্য আলেম উলামা ও সকল ইসলামী দলের সাথে সাথে সমাজের প্রতিটা মানুষের প্রতিবাদ ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা অতিব জরুরী। এরা নিকৃষ্ট জানোয়ার, এইসব অভিনেতা অভিনেত্রী ও পরিচালকদেরকে গনধোলাই দেয়া দরকার।

শিমুল নামে একজন লিখেছেন, ডিজিটাল ভাদাইমা নামে কিছু নামহীন অভিনেতা কিছু মেয়েদের নিয়ে অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে সমাজকে দূষিত করছে। সানাই ও সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে যেভাবে পুলিশ সকর্ত করে দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তাই এই ডিজিটাল ভাদাইমা নামে যারা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে খুব দ্রুত পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

ফাহাদ নামে একজন লিখেছেন, এই ধরণের ভিডিও আমাদের সমাজের জন্য অমঙ্গল। এসব যারা বানাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। বাংলাদেশ সরকার যেখানে সোচ্চার অশ্লীলতার বিরুদ্ধে। সেখানে এরা এসব প্রকাশের সাহস পায় কোথায় থেকে?

এ বিষয়ে বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘যারাই ইন্টারনেটকে কলুষিত করবে তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হবে। রেশমী অ্যালোন, ভাদাইমা, টুনটুনি আদ্রিতাসহ অনেকেই এ তালিকায় রয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিডি২৪লাইভ/এএস/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: