প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নামাতে গিয়ে পুড়ে মরলেন স্বামীও

প্রকাশিত: ০৫:৩০ অপরাহ্ণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের আরও ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর একটি ওয়াহিদ ম্যানশন।

এই ওয়াহিদ ম্যানশনেই সুখের সংসার ছিল রিয়া ও রিফাতের। বন্ধুত্ব থেকে তাদের প্রেম। প্রেম থেকে বিয়ে করেন বছর দুয়েক হলো। আর কদিন পরেই প্রথম সন্তানের মুখ দেখতেন তারা। সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন রিয়া। প্রথম বাবা হওয়ার উন্মাদনা কাজ করছিল রিফাতের মধ্যেও।

কিন্তু পুরান ঢাকার চকবাজারের আগুন কেড়ে নিল সব কিছু। রিয়া-রিফাতের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্নও পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। সঙ্গে তারাও।

চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের 'ওয়াহিদ ম্যানশন' ভবনের তৃতীয় তলায় স্ত্রী রিয়াকে নিয়ে থাকতেন রিফাত। বুধবার রাতে আগুন লাগার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ভবন থেকে নামতে পারেননি, তাই নামেননি রিফাতও। গর্ভের সন্তানসহ দুজনেরই আগুনে পুড়ে হয়েছে করুণ মৃত্যু।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে মরদেহ শনাক্ত করতে আসা রিয়া ও রিফাতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

রিয়া ও রিফাতের বন্ধু আল-আকসার সাজিদ জানান, ওয়াহিদ ম্যানশন ভবনের যে বাসায় রিয়া ও রিফাত থাকতেন তা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে তাদের না পেয়ে সোজা ছুটে এসেছেন হাসপাতাল মর্গে। তিনি জানান, চেহারা দেখে মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাজিদ জানান, রিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ছাড়াও নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আগুন লাগার পর রিফাতের পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। কিন্তু রিয়াকে নিয়ে নামতে পারছিল না বলেই রিফাতও নামেননি। দুজনই পুড়ে মারা যায়।

সাজিদ জানান, এ খবর শুনে রিয়ার পরিবারের লোকজনও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রিফাতের পরিবারের লোকজন এসেছেন। তারা লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত লাশ শনাক্ত করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীর চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। এর মধ্যে ৭০ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০ টি মৃতদেহ।

এছাড়াও আরও ১১টি মৃতদেহ বিভিন্নভাবে পৌঁছায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। দেশের একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: