প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

সম্পাদনা: সাজিদ সুমন

ডেস্ক এডিটর

ছেলের ছবি হাতে ডিএনএ নমুনা দিতে ঢামেকে মা

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৫:৩২:৪৯

রাজধানীর পুরান ঢকায় চকবাজারে আগুনে পুড়ে ছেলের চেহারা বিকৃত হয়ে পড়ায় লাশ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বোনের বিয়ের কেনাকাটা করতে গিয়ে লাশ হওয়া নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহানে

ছেলের ছবি হাতে রোহানের মা ডিএনএর নমুনা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন ছেলের লাশ নিতে।

শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার কিছু সময় পর তিনি ঢাকা মেডিকেলে আসেন।

এদিকে বেলা ১১টা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে লাশের সন্ধানে আসা স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষা শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন টিম। এর অংশ হিসেবে স্বজনদের রক্তের নমুনা নেয়া হচ্ছে।

সিআইডির সহকারী ডিএনএ অ্যানালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন গণামাধ্যমকে জানান, ৪৫ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ২২ জনের লাশ শনাক্ত করতে বেশ সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, যারা লাশের সন্ধানের জন্য এসেছেন তাদের বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের রক্তের নমুনা রাখা হবে। যদি তারা না আসেন, তা হলে ভাইবোনদের নমুনা রাখা হবে। তবে পুরো বিষয়টির জন্য সময় লাগবে ৭ থেকে ২১ দিন।

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহত রোহান বিয়ের কেনাকাটা করতে চার বন্ধুকে নিয়ে বের হয়েছিলেন। আরও কিছু কাজও ছিল তার। সব শেষ করে বাসায় ফেরার কথা ছিল।

কিন্তু বুধবার রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড সেই উৎসব থেকে নাই হয়ে গেলেন রোহান। থামিয়ে দিল তার সব আনন্দ ও উৎসব। আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না রাজধানীর নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রোহান।

রোহানের সঙ্গে ছিলেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র আরাফাত। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করলে লাশ হলেন তিনিও। কাজী আলাউদ্দিন রোডসংলগ্ন মসজিদ এলাকার বাসিন্দা আরাফাত।

রোহানের চাচাতো ভাই মমিন জানান, রোহানের মরদেহ মর্গে আছে বলে নিশ্চিত হলেও কেউ শনাক্ত করতে পারছি না।

অপর একটি মোটরসাইকেলে রোহানের সঙ্গে ছিলেন তার ভাগ্নে লাবিব, রমিজ ও সোহাগ।

লাবিবের মাথার সামান্য অংশ পুড়লেও তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। রোহানের নানা ইউনুস খান জানান, রোহানের ছোট বোনের বিয়ে আগামী মার্চে। আর তাই বন্ধুদের নিয়ে সে খুব ব্যস্ততার ভেতর ছিল। বুধবার সে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া ও ডেকোরেশনে কথা বলতে গিয়েছিল। কিছু কেনাকাটার কাজও বাকি ছিল, তখন এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের সময় রাস্তায় যানজটে আটকে থাকায় অনেকে প্রাণে রক্ষা পাননি। আগুনের কবল থেকে পালিয়ে বাঁচার আগেই মৃত্যু তাদের গ্রাস করে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবনে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে। এ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ৪১ জন।

বিডি২৪লাইভ/এসএস

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: