আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

বিডি২৪লাইভকে একান্ত সাক্ষাৎকারে হুইপ

এবার সংসদীয় কমিটিগুলো ভালো করবে

১০ মার্চ, ২০১৯ ১৮:৩৬:৩২

নিজস্ব ছবি।

সংসদ সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি দক্ষতার সঙ্গে ৯ বছর দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ নিজ দলের বিভিন্ন বিষয়ে বিডি২৪লাইভের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন তিনি।

বিডি২৪লাইভ: বিএনপির নির্বাচিত সাংসদরা সংসদে আসলে কেমন হবে এবং তারা সংসদে না আসায় সংসদের কোন সমস্যা হচ্ছে কি?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদের বাহিরে কথা না বলে সংসদে এসে কথা বললে জাতির জন্য ভালো হবে। তারা সংসদে আমাদের সংসদ সদস্যদের চেয়ে অনেক বেশি সময় কথা বলার সুযোগ পাবেন। এছাড়া তারা বিলে ভোট দিতে পারবেন। বিএনপির সংসদ সদস্য সংখ্যায় কম হলেও তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমাদের সিনিয়র নেতারা ১০ মিনিট কথা বলতে পারছেন কিন্তু সংখ্যায় কম হওয়ায় জাতীয় পার্টির জুনিয়র এমপিরাও ২০ থেকে ৩০ মিনিট কথা বলতে পারছেন। বিএনপির প্রার্থীরা এলে তারাও বেশি সময় কথা বলতে পারবেন। আমি মনে করি জনগণের জন্য তাদের সংসদে আসা উচিত।

বিডি২৪লাইভ: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক নিবন্ধিত বড় দল অংশ নিচ্ছে না সেক্ষেত্রে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে কি? এছাড়া আপনাদের দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দল কি কোন সিদ্ধান্ত নিবে?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন হওয়ায় এক তরফা হচ্ছে না। প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গায় চলে গিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো না। নির্বাচনের অংশ না নিলে সে দলের জন্য ফলাফল ভালো বয়ে আনে না। মানুষের কাছে বেশি কথা বলার সময়টা হল নির্বাচনের সময়। তাদের কাছে যাওয়া যায়। নেতাকর্মীদের কাছে পাওয়া যায়। রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার করা যায়। অন্য সময় এত প্রচার করা যায় না। উদারণ হিসেবে তিনি বলেন, ধরেন একটি ইউনিয়নে ২০ হাজার মানুষ, স্বাভাবিক সময় জনসভা করলে ২৫ শতাংশ মানুষ আসে। আর নির্রাচনের সময় একই এলাকায় সভাতে ৮০ শতাংশের উপরে মানুষের আসে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় বেশি মানুষকে পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক দল অংশ নিচ্ছে না। তাই দলে বিদ্রোহী প্রার্থীদে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোন র্নিদেশনা আসেনি। সব কিছু প্রাথমিক আলোচনায় রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ: আপনি প্রথমবারের মত হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন। এবার দ্রুত এমপিদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রথম বারের লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগে এমপিদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ থাকত। ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে এবার কিভাবে কাজ করছেন?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: ফ্ল্যাট বরাদ্দের মূল কাজ করছে আমাদের চিফ হুইফ এবং সংসদীয় কমিটি। ফলে আমি অবগত আছি এবার ফ্ল্যাট বরাদ্দে কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি না হয়। মুখ দেখাদেখি না হয়, সে বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। মানিক মিয়া এভিনিউতে আমাদের ১৮০০ এবং ১২০০ স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাট রয়েছে। আর কিছু আছে নাখাল পারায়। আমাদের প্রথম শর্ত এবার যারা সংসদ সদস্য অথবা তার পরিবার বসবাস করবেন তাদেরকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে এক সাইটে এমপিরা রয়েছেন আরেক সাইটে স্টাফরা রয়েছেন। সেক্ষেত্রে পরিবেশ এবং নিরাপত্তার সমস্যা হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা রয়েছে, কোন সংসদ সদস্য বরাদ্দ পাওয়া ফ্ল্যাটে স্টাফ রাখতে পারবে না। নিজে আথবা তার পরিবার থাকতে হবে। তবে তিনি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাবেন। যারা একাধিকবার এমপি হয়েছেন তারা ১৮ স্কায়ারফিট পাবেন। যারা নতুন এমপি হয়েছেন তারা ১২ স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাট পাবেন। এতেও আলাদা দুই ভাগে লটারি হবে।

বিডি২৪লাইভ: আপনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, হুইপ ও সাংসদ। সেক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব পলনে কোন অসুবিধা হয় কি?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপের কাজ প্রায় কাছাকাছি তাই আমার কাজ করতে কোন সমস্যা হয় না। আমি এর আগেও ৯ বছর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। অনেক সময় সংসদ সদস্য ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এটাকে যতটা সম্ভব কাজের মাধ্যমে আমি উন্নতি করেছি। আর এটাই সাংগঠনিক সম্পাদকের মুখ্য কাজ। সেটা আমি করার চেষ্টা করেছি।

বিডি২৪লাইভ: দশম জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অনেক সময় সদস্যরা উপস্থিত থাকতেন না। আবার অনেক বৈঠকও বাতিল হত। আপনি কি মনে করেন এবার সংসদীয় কমিটিগুলোতে পরিবর্তন দেখা যাবে?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: আমরা আশা করছি এবার সংসদীয় কমিটিগুলো ভালো করবে। কমিটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে করে দিয়েছেন। পুরোটা অবদান আমাদের প্রধানমন্ত্রীর। কোন এমপি কোন বিষয়ে দক্ষ তিনি সংসদে দেখে কমিটি করেছে। এবার ফাঁকিবাজি করার সুযোগ পাবে না কেউ। আমরাও মনিটরিং করব সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বৈঠকে ঠিকমত উপস্থিত হচ্ছে কিনা। আমরা চেষ্টা করব সংসদ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়।

বিডি২৪লাইভ: উত্তরবঙ্গের আব্দুল জলিলের পর আপনাকে আওয়ামী লীগের ভালো তরুণ নেতা হিসেবে দেখছেন সে এলাকার মানুষ। আপনি এলাকার মানুষের জন্য কি করার পরিকল্পনা করছেন?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: ভৌগলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উত্তরবঙ্গ অবহেলিত। এলাকাটি কৃষির উপর বেশি নির্ভরশীল কিন্তু বর্তমান সময়ে শুধু কৃষি দিয়ে তেমন উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্প উন্নয়ন করতে হবে। ভৌগলিক কারণে চট্টগ্রামের দিকে শিল্পে যতটা উন্নয়ন হয়েছে, উত্তরবঙ্গে তেমন হয়নি। রাজশাহী ও বগুড়ার পর রংপুরেও গ্যাস যাচ্ছে। বর্তমান সরকার উত্তরবঙ্গে শিল্প উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলোর সঙ্গে আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল চাইব।

বিডি২৪লাইভ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: বিডি২৪লাইভ ডটকমকেও ধন্যবাদ। শুভকামনা অনলাইন পত্রিকাটির জন্য।

বিডি২৪লাইভ/আরএইচ/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: