সন্তান জন্ম দেয়া নিষিদ্ধ যে গ্রামে

১৮ মার্চ ২০১৯ , ১২:৫০:০৩

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

মামফে ডাভ একটি গ্রামের নাম, যা পশ্চিম ঘানায় অবস্থিত। এই গ্রামে বসবাসকারী কোনো বাসিন্দারই জন্ম নিজ গ্রামে নয়। নিশ্চয় সবাই অবাক হচ্ছেন- হবারই কথা। কারণ ওই গ্রামে সন্তান জন্ম দেয়ার অনুমতি নেই।

জানা যায়, মামফে ডাভ নামক গ্রামটিতে সন্তান জন্ম দেয়াকে প্রথাবিরোধী এবং সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টির কারণ মনে করা হয়।

সম্প্রতি বিবিসি একটি প্রতিবেদনে এই গ্রামের কথা জানিয়ে বলেছে, গ্রামের এই নিয়ম ভাঙতে গিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুঃসহ যন্ত্রণা সহ্য করেছেন সন্তানসম্ভবা অনেক মা। এরপরও অনুমতি মেলেনি গর্ভের সন্তান প্রসবের।

এখানেই শেষ নয়, এখানে গর্ভবতী নারীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, এক কথায় ছুটে চলতে হয়। এমনকি তীব্র প্রসববেদনা নিয়েও কঠিন পথ পারি দিতে হয় বলে ওই প্রতিবেদনে উছে এসছে।

তবে কঠোর এই নিয়মের বিরোধীতা করতে শুরু করেছেন নারীরা। তাদের দাবি, এখানেই তাদের সন্তান জন্মদানের অনুমতি দেয়া হোক।

এই গ্রামের একজন নারী হানাহ কোসিনা। তিনি বলেন, আমি ৯ মাসের গর্ভবতী। কিন্তু এখানে সন্তান জন্ম দেয়ার অনুমতি নেই। সন্তান প্রসব করতে আমাদেরকে অনেক দূরে যেতে হয়।

তিনি বলেন, প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার সময় আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল। অন্য গ্রামে যাওয়ার জন্য একটি গাড়ি পেতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। আমার দ্বিতীয় সন্তানটি হয় অন্য আরেকটি গ্রামে। তবে এখন কাছাকাছি একটি ক্লিনিক হয়েছে। আমার তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় সেখানেই যাবো। 

কোসিনা আরও বলেন, আমি গ্রামের মোড়লদের কাছে বলতে চাই আপনারা এই নিয়ম বিলুপ্ত করুন। আমরা
যেন গ্রামেই আমাদের সন্তান জন্ম দিতে পারি।

&dquote;&dquote;
ওই গ্রামের মোড়লদের একজন কওয়ামে সিদিতসে বেনুয়া। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানে আসেন, তখন স্বর্গ থেকে বাণী এসেছিল। এটি একটি পবিত্র ভূমি, তোমরা যদি এখানে বসবাস করতে চাও; তবে এখানে কিছু নিয়ম আছে, এখানে কারও জন্ম হবে না। এবং কারও সৎকারও হবে না। 

তিনি আরও বলেন, আপনি যদি অনুগত হন, তাহলে সবকিছু ঠিকভাবে চলবে এবং সে কারণে আমরা এখনও এখানে আছি।

জানা গেছে, ওই অঞ্চলের অন্য আর সব গ্রামের এই রকম কঠিন নিয়ম বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু মামফে ডাভ গ্রামের হচ্ছে না। কারণ এখানকার মোড়লরা তা করতে চায় না।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: