কারাগারে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি

‘খুন’ হতে পারেন ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী টেরেন্ট!

১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৬:১০:০০

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর ও লিনউড নামক দুটি মসজিদে হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮) এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লির তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেয়। বর্বর এ হামলার কারণে টেরেন্টকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

এই শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী জেলে নাকি সবচেয়ে ‘টার্গেটেড’ ব্যক্তি বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী খ্রিস্টান যুবক টেরেন্টকে নাকি ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে জেলের একাধিক গ্যাং সদস্যরা। তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, ‘আমাদের ভেতরেও (জেলে) বন্ধুবান্ধব আছে।’ তিনি এর বেশি কিছু না বললেও টেরেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয় তার আভাস দিয়েছেন।

ক্যানটারবারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধী বিশেষজ্ঞ গ্রেগ নিউবোল্ড জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় জেলে পার করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হুমকিগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। আমি তা খুব সিরিয়াসলি নিতাম। আমি বলব, তিনি (ব্রেনটন টেরেন্ট) খুব ভয়াবহ বিপদে আছেন।’

গ্রেগ নিউবোল্ড বলেন, ‘জেলে এমন অনেক মানুষই থাকবে যারা এই হামলার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং বিশেষ করে তার (টেরেন্ট) শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হওয়ার বিষয়েও। ’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলের বেশিরভাগ আসামিরাই শ্বেতাঙ্গ নন এবং যেহেতু সেখানে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরা সংখ্যালঘু তাই টেরেন্ট খুব সহজেই তার মতো কারোও সঙ্গে জোট গঠন করতে পারবেন না।’

নিউবোল্ড জানান, জেলে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের সামান্য সুবিধাও আছে। তিনি বলেন, ‘যদি আদালতে টেরেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাহলে তাকে অকল্যান্ডের জেলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হতে পারে।’

‘তার জীবনের বাকি সময় সে জেলেই নির্বাসিত হিসেবে কাটিয়ে দিতে পারেন এবং আগামী ৫-১০ বছর টেরেন্ট একজন ‘বাস্তবিক’ নির্জন বন্দি হিসেবে সময় কাটিয়ে দিতে হবে।

‘জেলে এমন অনেকেই আছেন যারা সেকেন্ডের মধ্যে ব্রেনটন টেরেন্ট এর সন্নিকটে যেতে পারবেন। আর তাই অবশ্যই তাকে নির্জন কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।’ বলেও জানান তিনি।

তিনি এও বলেন, ‘সে যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাকে দীর্ঘ সময় বন্দি থাকতে হবে এবং তাকে বেশিরভাগ সময় নিজের কারাকক্ষেই থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রেনটনকে খুব সহজেই জেলে হত্যা করা যেতে পারে। তাই সেখানে তার আশেপাশে অধিক মানুষের সমাগম করতে দেওয়া যাবে না।’

নিউবোল্ড বলেন, ‘দেশে বেশিরভাগ স্বজাতবাদীরা হিটলারের মতাদর্শে চলেন না। তারা এশিয়ার, মুসলিম কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের পচ্ছন্দ করেন না ঠিক আছে। তবে এভাবে হত্যা করার পক্ষেও নন। তার তাই খুব সহজেই তারা একত্রিত হয়ে তার (টেরেন্ট) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন।’

মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টকে কারাগারে ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ হিসেবে রাখা হবে। কারাগারে তার নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় তাকে নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট-এর হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: