প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

টাঙ্গাইল

সিগারেট খাওয়ায় ছাত্রদের হাত-পা বেঁধে মারধর, স্কুল ভাঙচুর

১৯ মার্চ ২০১৯ , ১২:৫৮:০০

ছবি: প্রতিনিধি

টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা সৃষ্টি রেসিডেনসিয়াল স্কুলে সিগারেট খাওয়ার অপরাধে ১১ ছাত্রকে হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মেঝেতে ফেলে স্ট্যাম্প দিয়ে বেড়ক পেটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে মাঝরাত থেকে সকাল পর্যন্ত আবাসিক ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে আগামী বুধবার (২০ মার্চ) অভিভাবকদের সঙ্গে এক বৈঠক হবে বলে একটি সূত্রে জানা যায়।

ছাত্র ও অভিভাবকরা জানান, গত শুক্রবার রাতে সৃষ্টি রেসিডেনসিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রের ধুমপান করাকে কেন্দ্র করে আবাসিক শিক্ষকরা ১১ ছাত্রকে ডেকে শাস্তি দেন এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানান। এ নিয়ে ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে ভবনের ভেতরে একটি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ভবনে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে কার্বনডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয়।

এতে আবাসিক শিক্ষকের কক্ষে ধোয়া প্রবেশ করলে তিনি ভয় পেয়ে অন্য শিক্ষকদের ডাকেন। পরে তারা ১১ জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে তাদের হাত, পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেধে মেঝেতে ফেলে স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটান।

পরের দিন শনিবার সকালে অভিভাবকদের খবর দিলে তারা ছাত্রদের নিয়ে যান। শনিবার রাতেই আবাসিকের ছাত্ররা আবার ক্ষিপ্ত হয়ে ভবনের নিচতলা থেকে শুরু করে চারতলা পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিস কক্ষ, লিফট, চেয়ার, টেবিল, খাট, ফ্যান, কম্পিউটার, গ্লাসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

এ সময় ওই ভবনের আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেরে রাতেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নবম শ্রেণির ছাত্র আল আমিনের মা জলি আক্তার জানান, শনিবার সকালে এক শিক্ষকের ফোন পেয়ে তিনি আবাসিকে আসেন। কিন্তু তাকে তার ছেলের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। তাকে অফিস রুমে বসিয়ে রাখা হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা পর ছেলেকে তার কাছে আনা হয়। তখন ছেলের পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

পরে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে ছেলে জানায়, শিক্ষকরা ওর দুই পা থেকে শুরু করে কোমড় পর্যন্ত পিটিয়েছে এবং সারা রাত মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

আবাসিক ভবনের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল জোয়াহের পিতা মনিরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর পর ছাত্ররা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ভাঙচুর চালায়। কেন ছাত্রদের উপর শারীরিক নির্যাতন কেন করা হলো এর বিচার চাই।

আবাসিক স্কুলের অফিস এক্সজিকিউটিভ ইসমাইল হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে নবম শ্রেণির ছাত্র পারভেজ, মাজেদুর, সাগর ও রাফিসহ আরও কয়েকজন ভবনে ধুমপান করে আবাসিক শিক্ষক মিজানের কাছে ধরা পড়ে। এদেরকে অফিস রুমে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং অভিযুক্ত ছাত্রদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে ওই ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক মিজানের উপর হামলা করে। পরবর্তীতে শনিবার সকাল থেকেই দশম শ্রেণির ছাত্র আতিকুর, সিয়াম, সাগর ও শাওনের নেতৃত্বে আবাসিক ভবনে থাকা সাড়ে তিনশত ছাত্র ভাঙচুরে অংশ নেয়।

এ ব্যাপারে সৃষ্টি রেসিডেনসিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী লিটন বলেন, আবাসিকের কয়েকজন ছাত্র সিগারেট খাওয়ায় শিক্ষকরা তাদের একটু শাস্তি দিয়েছিলেন। এই ক্ষোভে তারা ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, স্কুলের ছাত্ররা ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালালে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর অভিভাবকদের অভিযোগ ঠিক না।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: