প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

কিশোরীর উপর ভাই-কাকাদের এ কেমন নৃশংসতা!

১৯ মার্চ ২০১৯ , ০৩:৩৩:৪১

ছবি: প্রতীকী

পৃথিবীতে মেয়েদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে। কিন্তু, নরপশু এই আত্মীয়দের কাণ্ড দেখলে আপনি হয়তো শিউরে উঠতেন।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায় নিজের কাকা ও ভাইদের হাতে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে ১২ বছরের এক কিশোরী। হত্যার পর ওই কিশোরীর মাথা তার শরীর থেকে পৃথক করে মাঠে ফেলে দেয়া হয় ।

গত ১৩ মার্চ স্কুল থেকে ফিরে আসার পথে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুজির পরও তার কোনো সন্ধান না পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেন কিশোরীর পিতা। পরদিন গ্রামের বাইরের দিকে একটি মাঠে তার মাথাবিহীন লাশ পাওয়া যায়। পরে সে মাঠ থেকেই তার মাথাও উদ্ধার করা হয়। রক্তাক্ত কাপড় ও খুনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি কাস্তেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কিশোরীর কাকাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানিয়েছিলেন, একই গ্রামে বসবাসকারী ছোটে প্যাটেল নামের একজন এ খুন করে থাকতে পারেন। প্যাটেল ও তাদের পরিবারের মধ্যে জমি বিবাদ নিয়েই এ ঘটনা বলে পুলিশকে জানান তার কাকা। পুলিশ কর্মকর্তা অমিত সাংহী অভিযোগ করেন, কিশোরীর কাকা মামলার তদন্তকারীদের ভুল তথ্য দিয়ে অন্য পথে চালিত করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি আরো জানান, পোস্টমর্মেম ও মেডিক্যাল রিপোর্টে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে।

অমিত জানান, আমাদের দুইজন সিনিয়র কর্মকর্তা সব প্রমাণ সংপ্রহ করে পরিবারের সদস্যদের বিবৃতি রেকর্ড করে। পরে যখন সব কিছু সামনে নিয়ে দেখা হয়, তখন দেখা যায়, মেয়েটির ভাই ও কাকাই তাকে ধর্ষণ ও খুন করেছে। আমরা কাকা এবং ভাইদের একজনকে গ্রেফতার করেছি।

ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানান, স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে মেয়েটি যখন বাড়ি ফিরছিল তখনই তার এক ভাই তাকে কাকার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে তিন ব্যক্তি তাকে গণধর্ষণ করে এবং মেয়েটি যখন পুলিশের কাছে যাওয়ার এবং এ বিষয় ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয় তখন তার কাকী তাকে মারধর করে। এরই এক পর্যায়ে মেয়েটির মাথা বিচ্ছিন্ন করে একটি মাঠে ফেলে দেয়া হয়।

পুলিশের এ রহস্য উদ্ধারের আগে এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সন্দেহ করা হচ্ছিল প্যাটেল নামের এক ব্যক্তির দিকে। কারণ তাদের সাথে এ খুন হওয়া কিশোরীর পরিবারের জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। ফলে খুব সহজেই তাকে এ খুনের জন্য দায়ী করা হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, বিবদমান ওই পরিবার নয়, বরং তার একেবারে নিকটাত্মীয়রাই এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। সূত্র : এনডিটিভি।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: