প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা

নিউজিল্যান্ডে সকল নারীর হিজাব পরার ঘোষণা!

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, ২০ মার্চ ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর ও লিনউড নামক দুটি মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮) এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লির তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ হামলার কারণে টেরেন্টকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত রিমান্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।

এদিকে, ক্রাইস্টচার্চের ওই দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ওপর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বর এ হামলায় গোটা নিউজিল্যান্ডজুড়ে হিজাব পরে প্রতিবাদ জানানো হবে।

বিশ্বের মধ্যে শান্তির দেশ খ্যাত নিউজিল্যান্ডে নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে দেশটির সব ধর্মের মানুষ হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবে।

আগামী শুক্রবার (২২ মার্চ) ‘সম্প্রীতির জন্য হিজাব’ নামে এই কর্মসূচিটি পালন করা হবে।

এ বিষয়ে আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের মানুষ বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় শোকাহত। গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো ৫০ জন মা, বাবা, সন্তান, সহকর্মী ও বন্ধুদের প্রতি আমরা ভালোবাসা ও সহমর্মিতা জানাতে চাই। মুসলিম কমিউনিটি যে অসহনীয় অবস্থার শিকার হয়েছে, এ কঠিন দুঃসময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

অভিনব এ আয়োজনের উদোক্তা একজন নারী। তার নাম থায়া আশমান।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করেছেন আশমান। আফগানিস্তানে স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তার হিসেবে কাজ শুরুর পর মুসলিমদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের উদারতা তাকে উৎসাহিত করেছে।

থায়া আশমান বলেন, আমি এক আতঙ্কিত নারীর কথা শুনেছি যিনি হিজাব পরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ হিজাব পরার কারণে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। আমি বলতে চাই, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি, আমরা চাই আপনি ঘরের মতো রাস্তাতেও যেন নিরাপদবোধ করেন, আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন ও শ্রদ্ধা করি’।

আশমান আগামী শুক্রবার (২২ মার্চ) নিউজিল্যান্ডবাসীকে হিজাব পরার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন কঠোর নিন্দা করেছিলেন। মুসলমানদের সাথে একাত্মতা জানিয়ে হিজাব পরেছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এবারও নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন। পার্লামেন্টর অধিবেশন শুরু করা হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তেমনি প্রধানমন্ত্রী নিজেও বক্তৃতা শুরু করেছেন মুসলিমদের বিশেষ অভিবাদন বাক্য সালাম দিয়ে। বক্তব্য শেষে বিদায়ও নেন সালামের মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়। তাতে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন শুরুতেই স্পিকারকে লক্ষ্য করে সালাম দেন। তিনি বলেন, ‘মি. স্পিকার, আসসালামু আলাইকুম।’ এরপর তিনি ইংরেজিতে আবার সবার জন্য শান্তি কামনা করেন।

এরপর নিজ ভাষণে জেসিন্ডা বলেন, এ হামলাকারীকে আইনের সর্বোচ্চ সাজা ভোগ করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ সাজা তাকে দেয়া হবে। ওই সন্ত্রাসী তার কর্মকাণ্ডের পক্ষে অনেক কিছু ভাবতে পারে। কিন্তু সে আসলে কুখ্যাতি ছাড়া আর কিছুই পায়নি। তার এই জঘন্য কাজের জন্য আমি কখনোই তার নাম উচ্চারণ করব না।

জেসিন্ডা বলেন, সে একজন সন্ত্রাসী। সে একজন চরমপন্থী। তবে আমি যখনই তার ব্যাপারে কথা বলব, তখন তার নাম মুখে আনব না।’

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: