প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় বিপাকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

২২ মার্চ ২০১৯ , ১০:০৪:০০

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। শুধু শিক্ষকরাই নয় বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়ছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত জাতীয়করণের দাবি উঠেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।

সারাদেশের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়ে গেলে ও বান্দরবানে ১১টি বিদ্যালয় এখনো সরকারি ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বেসরকারিভাবে পরিচালিত হওয়ায় বিদ্যালয়ে রয়েছে নানান সমস্যা। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের অভাব, স্যানিটেশন ব্যবস্থার সমস্যা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে এসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম। এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীদের, আবার উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় বাবা মায়ের স্বল্প আয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছে না দুর্গম পাহাড়ের অনেক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

লামা উপজেলার ধুইল্যা পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র মো: আবুল কালাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীদের। এক বেঞ্চে ৫ থেকে ৬ জনকে একসাথে বসে আমাদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে হয়, আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

লামা উপজেলার ধুইল্যা পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া জানান, আমরা সরকারি কোন উপবৃত্তির টাকা পায় না, উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় বাবা মায়ের স্বল্প আয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছি না।

শিক্ষকরা জানান, ২০১২ সালে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়কে সরকারিভাবে পরিচালনা করা হবে বলে ঘোষণা দেন, আর সেই ঘোষনার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনার পরে ও শিক্ষা বিভাগের তদারকির অভাবে এখনো বান্দরবানের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বেসরকারিভাবে পরিচালনা করতে হচ্ছে, আর এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

বান্দরবানের হেব্রন পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক লাল রাম নোয়াম বম জানান, শিক্ষা বিভাগের তদারকির অভাবে এখনো বান্দরবানের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বেসরকারিভাবে পরিচালনা করতে হচ্ছে, আর এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে, বেতন না নিয়ে বিদ্যালয়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই মৌজার ধুইল্যা পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক কষ্টে আছি। আমরা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই শীঘ্রই যেন পার্বত্য এলাকার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়।

বান্দরবানে বেসরকারিভাবে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো হলো বান্দরবান সদরের খমঙখ্যংওয়া, এম্পু পাড়া, মশাবনিয়া, হেব্রন পাড়া, গুংগুরু আগা পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। লামা উপজেলার নুনারঝিরি , মেরেঞ্জা, ধুইল্যা পাড়া, কমিউনিটি সেন্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর নাইক্ষংছড়ি উপজেলার শৈলশক্তি, জোমখোলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে এবং কিছু পরিমাণ বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি, তবে শীঘ্রই পার্বত্য জেলার এই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় চলে আসবে।

বান্দরবানের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: তবিবুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, আর আমরা বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিস জেলার শিক্ষার মান রক্ষায় সার্বিক তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: তবিবুর রহমান আরও জানান, আমাদের বান্দরবানে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও জাতীয়করণ হয়নি, তবে আশা করি শীঘ্রই সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে যাচাই বাছাই করে জাতীয়করণ করা হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝড়ে পরা রোধ এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়ে উন্নত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য শীঘ্রই বেসরকারি ভাবে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সরকারি করার জোর তাগিদ দিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: