প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

তৃতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় ভোট রবিবার

সহিংসতার আশঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা ইসির

২৩ মার্চ ২০১৯ , ১২:৩৮:১২

ছবি: ইন্টারনেট

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় রোববার (২৪ মার্চ) ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা করে এ ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে হামলার ঘটনার পর নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইসি। এরই অংশ হিসেবে এ ধাপ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ধাপে দেড় লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার থেকে মাঠে নেমেছেন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের পরও দুই দিন মাঠে থাকবে তারা।

ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানান, উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচনি এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আজ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি মালামাল পাঠানো হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। 

তিনি বলেন, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটের সাত দিন আগে থেকে বৈধ অস্ত্র লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন, প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ থাকছে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভেদে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৪, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ জন নিয়োজিত থাকছে। তবে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে হামলার ঘটনার কথা মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত আরও কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও টহল টিম বাড়ানো হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, উপজেলা ভোট উপলক্ষে জেলা নির্বাচন অফিসার ২৫ জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ২৪, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ৬৪ (উপজেলা নির্বাহী অফিসার), সহকারী রিটার্নিং অফিসার ৮২ জন এ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে ১১৬ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের প্রতিটি টিমে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হয়েছে। 
এছাড়াও ভোটে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে তিন দিনের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মহাপরিচালক জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নেতৃত্বে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। 

এদিকে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের চৌহদ্দির বাইরে যেতে আজ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসি। কোন রোহিঙ্গা শরণার্থী ২৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৫ মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত ক্যাম্পের চৌহদ্দি থেকে বের হতে পারবেন না। ওই সময় তারা অন্য কোথাও যেতে পারবেন না। এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদেরও গাড়ি নিয়ে ওই সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য, ত্রাণ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

জানা যায়, প্রথম ধাপে ভোট হয় ১০ মার্চ, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ। তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ও চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোট হবে। ঈদের পর জুনে পঞ্চম ধাপের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২ উপজেলা পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮০টিতে এবার ভোট হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ১২ উপজেলায় এ বছর ভোট হবে না। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাসে ছয় ধাপে এর অধিকাংশগুলোতে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এ নির্বাচন করতে হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করেছিল তৎকালীন ইসি।

বিডি২৪লাইভ/আরএইচ/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: