প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

পুলিশের হেনস্তার শিকার সাংবাদিক

২৪ মার্চ ২০১৯ , ১১:৩২:৪৬

গুলশান-১ থেকে বাড্ডার দিকে যেতে গুদারাঘাট সংলগ্ন লিংক রোডের চেক পোস্টে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে আজকের পত্রিকার এক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কাজী ফয়সালকে হেনস্তা করে পুলিশ। মোটরসাইকেল তল্লাশী সময়কালীন ছবি তুললে সেগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য করে পুলিশ। অন্যথায় আটক করারও হুমকি দেন ঘটনাস্থলে দায়িত্বপালনকারী পুলিশের এসআই মাসুম ও কন্সটেবল মমিন। রোববার (২৪ মার্চ)  সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে এই সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশের এসআই মাসুম। তার সঙ্গে পুলিশের এপিবিএন’র ইউনিফর্ম পরিহিত কন্সটেবল মমিন তেড়ে এসে ফয়সালাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতে উদ্যোত হন। পরিস্থিতে ঘটনাস্থলে বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জড়ো হয়ে ওই সাংবাদিককে পুলিশের কবল থেকে রক্ষা করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাংবাদিক কাজী ফয়সাল বলেন, গুলশানের ডিপ্লমেটিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে, এমন তথ্য পেয়েই বিকেলে ওই চেকপোস্টের তল্লাসীর ছবি তুলতে যাই। তখন ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বললেন, আমাদের ইনচার্জের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা যাবে না। তখন ইনচার্জ এসআই মাসুমের কাছে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়ার জন্য বলি। মাসুম বলেন, আপনি এখানে ছবি তুলে কি করবেন! আপনি অন্য কোনো চেকপোস্টে গিয়ে ছবি তুলেন, না হলে পরে আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ওই চেকপোস্টের ছবি তোলা মাত্র এসআই মাসুম ও মমিন তেড়ে আসেন। এসআই মাসুম উত্তেজিত কণ্ঠে সাংবাদিক ফয়সালকে বলেন- আপনি কার অনুমতি নিয়ে ছবি তুললেন? অনুমতি নিলেন না কেনো? আপনার এতো সাহস কেনো? একই সময়ে কন্সটেবল মমিন বলেন, আপনি ভুয়া সাংবাদিক, অনুমতি না নিয়ে ছবি তুলেছেন। আপনাকে আটক করব এখনই।

কাজী ফয়সাল বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমি তাদের পেশাগত পরিচয়পত্র দেখাই এবং বলি আপনারা কেনো আমাকে আটক করবেন? আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করলাম মাত্র। আপনারা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে তল্লাসী করছেন এখানে এমন কি গোপনীয়তা রয়েছে, যে ছবি তোলায় আপনার উত্তেজিত হচ্ছেন? এমন সময়েই কন্সটেবল মমিন ভিজিটিং কার্ড চান। পরে তাকে ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নাম মমিন। এমন সময়ে চিৎকার দিয়ে মমিন বলেন, আপনি আমার নাম জানতে চাইলেন কোনো? আপনি তো ভুয়া সাংবাদিক! আপনাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাবো।

একই সময়ে এসআই মাসুম হুমকির সুরে বলেন, ওই ভুয়া সাংবাদিক আপনি ভালোয় ভালো দ্রুত এখন থেকে চলে যান। না হলে আমরা আপনাকে আটক করে নিয়ে যাবো, তার আগে গণধোলাই খাওয়াবো। আমাদের চেকপোস্টে আমরা তল্লাশি করি, কি করি, না করি এটি আমাদের বিষয়। আপনি অনুমতি ছাড়া ছবি তুলতে পারেন না। আপনি দাঁড়ান আপনাকে আটক করবো।

ভূক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, এই বলেই এসআই মাসুম ও কন্সটেবল মমিন আমাকে ঘিরে রেখে মোবাইল নিয়ে ছবি ডিলিট করতে চায়। পরে এসআই আঙুল নাড়িয়ে বলতে থাকে- আপনি মোবাইল বের করে ছবিগুলো ডিলিট করবেন। অন্যথায় কোন মামলায় আপনাকে নিয়ে যাবো চিন্তাও করতে পারবেন না! পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ওই এসআই’র সামনে ছবিই ছবিগুলো ডিলিট করে দেই। ওই সময়ে আমি খুবই অসহায় হিসেবে নিজেকে আবিস্কার করি! বুক ভেঙ্গে কান্না পাচ্ছিলো। মনে প্রশ্ন জাগছিলো- চার দেয়ারের মাঝে নয়, গোপন কোনো স্থানে নয়, পাবলিক প্লেসে একটি তল্লাসী চৌকির ছবি তোলায় এমন কি অপরাধ হলো যে পুলিশ আমাকে হেনস্তা করলো! উত্তর খুঁজে পাই না পুলিশ কেনো আমাকে লাঞ্চিত করলো? আমিতো পুলিশের ঘুষ নেওয়ার কোন ছবি তুলতে যাইনি! আমিতো গোপন কক্ষের লেনদেনের কোনো ছবি তুলতে যাইনি! নাকি সাংবাদিক পরিচয় শুনতেই তাদের মাথায় রক্ত উঠে গেল? তাদের সঙ্গে তো আমার কোনো পূর্ব শত্রুতা ছিলো না! চারদিকে অনেকগুলো মানুষের সামনে কোনো তারা আমাকে হেনস্তা, অপমানিত আর লাঞ্চিত করলো?

এসব কথা ভাবতে ভাবতেই আমি আমার অফিসকে বিষয়টি জানাই। পাশাপাশি এখান থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য ম্যাসেজ পাঠিয়ে সাংবাদিক সহকর্মীদের সহযোগীতা চাই। পরে সহকর্মীরা এসে আমাকে উদ্ধার করে। তারা আসা মাত্রই দুর্ব্যবহার করা পুলিশ সদস্যদের আচরণের পরিবর্তন ঘটে। তবে এখনো আমি ভাবছি, আমার সঙ্গে কেনো এমন আচরণ করলো পুলিশ?

বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিককে জানালে তিনি বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক, এটি তদন্ত করে দেখবো। যদি কোনো পুলিশ সদস্য দোষী সাব্যস্ত হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: