শাহিনুর রহমান শাহিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বের বুকে এক অপরাজেয় জাতি বাঙালি 

২৫ মার্চ, ২০১৯ ২২:২৪:০০

ছবি: প্রতিনিধি

১৯৭১ সালে ২৫ মাচের্র পর থেকে সুদীর্ঘ ৯ মাস বাংলার তেজদীপ্ত দামাল ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলার আবাল বৃদ্ধ বনিতা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। ফলে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ও ৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা স্বপ্ন পূরণের দিন উঁকি মারে বাংলার সবুজ শ্যামল বুকে।

পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন আর দুঃশাসনের জাল ভেদ করে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকে প্রভাতী সূযের্র আলোয় ঝিকমিক করে উঠেছিল বাংলাদেশের শিশির ভেজা মাটি। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিবির্চার শোষণ, অত্যাচার, বঞ্চনা আর নিযার্তনের কালো অধ্যায়। তাই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, মুক্তির দিবস। স্বাধীনতা দিবস আসলে আমাদের ভাবনা মনের হৃদয়ে উঁকি দিতে থাকে। এই দিনটির মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মকে ও বিশ্বকে বারবার মনে করিয়ে দেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, শহীদদের কথা।

মনে করিয়ে দেই বাংলাদেশ নামে একটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে সবর্স্ব উজাড় করে এগিয়ে আসার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের তারুণ্যের অবদান অপরিসীম। এই দিনকে নিয়ে বড়দের মতো আমাদের তরুণ প্রজন্মের কল্পনায়ও উঁকি দেয় কত কথা কত স্বপ্ন।

আমার ভাবনা হলো সব ধরনের বৈষম্যহীন একটি নিরাপদ দেশ হোক বাংলাদেশ। যেখানে একজন আরেকজনকে শত্রু না ভেবে একে অন্যের মিত্র হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাবে সবাই। যেখানে হাজারো মানুষের ভিড়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কাউকেই ভাবতে হবে না।

স্বাধীন দেশের একটি ক্ষুদ্র বস্তুও হবে প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ। মাথার উপরের এক আকাশ আর পায়ের নিচের একই মাটির মানুষের মধ্যে থাকবে না কোনো দ্বন্দ্ব। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা ছিল দেশটা এমনি হবে। এতকষ্টে অজির্ত স্বাধীনতা কেবল তখন পূর্ণ মূল্যায়ন পাবে যখন নিজেরা নিজেদের আপন ভাবতে পারব। তবেই এই স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাথর্কতা নিশ্চিত হবে।

উন্নয়নের সোপান বেয়ে পদ্মাসেতু গড়ে উঠছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু পথ এখনো অনেক বাকি! যে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, সে গণতন্ত্রের চর্চার কতটুকু হচ্ছে? কতটা ভালো আছি আমি, আমরা, এই দেশটা?

ইতিহাসের এক নিকৃষ্ট পাক-বাহিনীর কাছ থেকে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। এখন সময় দেশের অভ্যন্তরীণ দলাদলি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাশবিকতাকে পরাভত করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। প্রতিটা বাংলাদেশির মতো আমিও স্বপ্ন দেখি বেকারত্ব, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের। যে স্বপ্নটা দেখেছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় সবাই মিলে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অাসুন অামরা সবাই একাতাবদ্ধ হয়ে দেশটাকে সকল অন্যায়-অনাচার থেকে রক্ষা করে সোনালী শান্তির দেশ হিসাবে গড়ে তুলি।

স্বপ্ন দেখি এই ছোট্ট দেশটা একদিন অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সেই সফল রাষ্ট্র গড়ার এক ছোট্ট কারিগর হতে চাই।

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: