এবার ক্যানসার প্রতিরোধে বড় অগ্রগতির কথা জানালেন গবেষকরা

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:২০:০০

ছবি: ইন্টারনেট

এবার ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য নতুন সাফল্যের খবর দিলেন যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইন্সটিটিউটের একদল গবেষকরা এবং একইসাথে তারা চিকিৎসার জন্য নতুন কিছু ধারণাও নিয়ে এসেছেন। ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এখন থেকে পুরো শরীরের জন্য ওষুধ না দিয়ে শুধুমাত্র আক্রান্ত কোষগুলোর চিকিৎসা করা সম্ভব। যার মাধ্যমে অনেকটাই মরণব্যাধি ক্যানসার রোগে প্রতিরোধ করা যাবে।

যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইন্সটিটিউটের একটি দল ৩০ ধরনের ক্যানসার থেকে ক্যানসারের কোষগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখানে ওষুধ প্রয়োগ করে প্রায় ছয়শ’ নতুন ধরনের ঝুঁকি নিরসন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এদিকে নিয়মিত কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে এর প্রতিক্রিয়ায় পুরো শরীরেই কমবেশি অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে বলে জানিয়েছেন, গবেষক দলের অন্যতম একজন ডা. ফিওনা বেহান।

তিনি বলেন, তার মা ক্যানসারে দু’বার আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

প্রথম দফায় ডা: বেহানের মাকে যে কেমোথেরাপি দেয়া তাতে তার হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় বার তিনি যখন আবার ক্যানসার আক্রান্ত হলেন তখন চিকিৎসা নেয়ার মতো অবস্থা আর তার ছিল না।

ডা: বেহান বলেন, ‘এখন যে চিকিৎসা আমরা করছি তা ক্যানসার রোগীর পুরো শরীরের চিকিৎসা। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে চিহ্নিত করছি না। এ গবেষণায় আমরা ক্যানসার কোষগুলোর দুর্বলতম স্পটগুলোকে শনাক্ত করেছি এবং এটি আমাদের ওষুধ তৈরিতে সহায়তা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো শুধু ক্যানসার কোষগুলোরই চিকিৎসা দেবে এবং ভালো কোষগুলোকে অক্ষত রাখবে।’

ক্যানসার মানুষের শরীরের ভেতরের কোষগুলোকে পরিবর্তন করে দেয়। ফলে ডিএনএ নির্দেশনাও পরিবর্তন হয়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে আক্রান্ত কোষগুলো ছড়াতে থাকে ও এক পর্যায়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

গবেষকরা বলেন, তারা ক্যানসার জিনগুলো অকার্যকরের পথে অগ্রগতি অর্জন করেছেন এবং তারা দেখতে চেয়েছেন যে কোনগুলো বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় ৩০ ধরনের ক্যানসার থেকে ল্যাবরেটরিতে বেড়ে ওঠা ৩০০টির বেশি টিউমারের জিন বাধাগ্রস্ত করেছেন তারা। এজন্য তারা বিশেষ ধরনের জেনেটিক টেকনোলজি ব্যবহার করেছেন, যেটি গত বছর চীনে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ডিএনএতে কাজ করার জন্য এটি মোটামুটি সহজ ও নতুন। নতুন এ গবেষণা ক্যানসার চিকিৎসার জন্য যে ধারণা নিয়ে এসেছে সেটি চিন্তা করা এক দশক আগেও অসম্ভব ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

জার্নাল নেচারে এ গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে যেখানে গবেষকরা ৬ হাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিন চিহ্নিত করেছেন।

ডা: বেহান বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি ক্যানসার সেলগুলোতে কী হচ্ছে- যাতে করে সুনির্দিষ্টভাবেই ওই কোষগুলোর দিকে বন্দুক তাক করা যায়।’

গবেষকদের প্রধান লক্ষ্য প্রত্যেকটি ধরনের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য একটি ‘ক্যানসার ডিপেনডেন্সি ম্যাপ’ প্রণয়ন করা। এর ফলে চিকিৎসকরা টিউমারগুলো টেস্ট করে ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংসের জন্য ওষুধ দিতে পারবেন।

‘এটা লেজার সাইট প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ,’ বলেও জানান ডা: বেহান।

বিডি২৪লাইভ/এসএ/টিএএফ/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: