নারীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ৪৯ সন্তানের বাবা তিনি!

১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:২৫:০০

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই হয়ে গেলেন ৪৯ সন্তানের বাবা। সন্তান জন্মদানে সমস্যা রয়েছে এমন লোকেদের ডাক্তারি সহায়তা দিতেন ডা. ইয়ান কারবাত নামে একজন ফার্টিলিটি চিকিৎসক। আর তিনিই ঘটান এমন ঘটনা। এ ঘটনা ঘটে নেদারল্যান্ডসে রটারড্যাম এলাকায়।

ডা. ইয়ান নিজেকে ‘এসিস্টেড রিপ্রোডাকশন’ বিষয়ক একজন পথিকৃৎ হিসেবে দাবি করতেন। যদিও ২০০৯ সালেই তার ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সেসময় অভিযোগ ছিল তিনি শুক্রাণু দানকারীদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে তার জন্ম দেওয়া সন্তানের সংখ্যা হয়ত আরও বেশি হবে।

২০১৭ সালে তার সহায়তায় জন্মানো ৪৯ ব্যক্তি ও তাদের বাবা ও মায়েরা একই সন্দেহ থেকে আদালতে মামলা করেন। যাদের বেশিরভাগেরই জন্ম ৮০ দশকে। তাদের সন্দেহ হচ্ছিলো, এই চিকিৎসকের সাথে ওইসব সন্তানদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে। ১১ বছর ধরে নিজের বাবাকে খুঁজেছেন তার ক্লিনিকে চিকিৎসার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া একজন।

অবশেষে তিনি জেনেছেন তার বাবা স্বয়ং তার মায়ের চিকিৎসক। তিনি বলছেন, ‘১১ বছর ধরে খোঁজার পর এখন আমি আমার জীবনে ফিরে যেতে পারবো। একটি অনিশ্চিত অধ্যায়ের অবশেষে সমাপ্তি হলো। আমি খুশি যে অবশেষে আমি আমার প্রশ্নের জবাব পেয়েছি।’

কিন্তু ওই বছরই ৮৯ বছর বয়সে মারা যান সেই চিকিৎসক। এরপর তার বাড়ি ও অফিস থেকে বহু কাগজপত্র জব্দ করা হয়। সেই বছরই ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে এই ব্যাপারে আদালত জানতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. ইয়ান কারবাত নামে একজন ফার্টিলিটি চিকিৎসক ক্লিনিকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তার ক্লিনিকে আসতেন সন্তান নিতে সমস্যা রয়েছে এমন নারী ও দম্পতিরা। সেখানে পুরুষের কাছ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা হতো। ফার্টিলিটি ক্লিনিকে দাতার পরিচয় গোপন রাখার বিধান রয়েছে।

অনেক সময় চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা শুক্রাণু দানকারীকে নিজেরা পছন্দ করে নিয়ে আসেন। এরপর সেই শুক্রাণু দিয়ে ল্যাবে ভ্রূণ তৈরির পর সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিদের সন্তান জন্মদানে সহায়তা করা হয়।

তবে ডা. ইয়ান কারবাত এসব ক্ষেত্রে নিজেই নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করতেন বলে এখন জানা যাচ্ছে। তাও আবার চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসা লোকজনের কোনো অনুমতি ছাড়াই। বিগত বছরে ওই চিকিৎসকের ক্লিনিকে সহায়তার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর চেহারা দেখতে মারাত্মকভাবে মিলে যাচ্ছিলো ইয়ানের সঙ্গে। সেখান থেকেই সন্দেহের শুরু।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: