প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

‘নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পর পরীক্ষা দেয় পপি ও তার বান্ধবী’

১৫ এপ্রিল ২০১৯ , ০৫:১৫:০৭

ছবি: ইন্টারনেট

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না নুসরাত জাহান রাফিকে। মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের জনগণ। সর্বত্র উঠেছে বিচারের দাবি।

এদিকে নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক জুবায়ের ও জাবের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে এসেছে নতুন কিছু তথ্য।

জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী হত্যার ঘটনায় আটক পপি ও তার বান্ধবী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেয়ার পর পরীক্ষায় অংশ নেয়। অজ্ঞাত ওই বান্ধবী এখন পলাতক রয়েছে।

গতকাল রাত ১টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন) তাহেরুল হক চৌহান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছিলেন।

সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, আসামিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আসামিরা পুরো বিষয় খোলাসা করেছেন। হত্যাকাণ্ডটি কারা ঘটিয়েছে, কীভাবে ঘটিয়েছে, কী প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছে বিস্তারিত বলেছেন। কিন্তু তা আপনাদের সামনে মামলার তদন্তের স্বার্থে পেশ করবো না।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা (সিরাজ উদ দৌলা) থেকে হুকুম পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নুসরাত হত্যায় সরাসরি জড়িত চারজনের সবাইকে গ্রেফতার করতে পারিনি। দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তাহেরুল হক চৌহান।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে মারা যায় ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: