প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

আল আকসা মসজিদে আগুন

১৬ এপ্রিল ২০১৯ , ০১:৩৪:৪৮

ছবি: ইন্টারনেট

অভিশাপ লেগেছে যেন বিশ্বের সুপ্রাচীন উপাসনালয় গুলিতে। একদিকে যখন কালো ধোঁয়ায় ঢাকছে প্যারিসের আকাশ, সমবেত মানুষের হাহাকার ছাপিয়ে আগুনের গ্রাসে ভেঙে পড়ছে ঐতিহ্যমণ্ডিত নটরডেম ক্যাথিড্রালের ধাতম মিনারের চূড়া, ঠিক একই সময় আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলে উঠল মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান জেরুসালেমে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন আল-আকসা মসজিদে।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে আগুনের লেলিহানে শিখা গ্রাস করতে থাকে প্রাচীন এই মসজিদের বহু পুরনো মারওয়ানি প্রার্থণা কক্ষ। তবে গোটা মসজিদে আগুন থাবা বসানোর আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনে ইসলামিক ওয়াকফের দমকলবাহিনী।

এদিকে আল-আকসা মসজিদের গার্ড আন্তার আল-হামাউরির বরাত দিয়ে ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানায়, সোমবার রাতে মারওয়ানি নামাজ কক্ষের বাইরে গার্ডদের রুমে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে। জায়গাটি সুলেমান’স স্টেবলস নামেও পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ধোঁয়ার কুণ্ডলী বিশাল চেহারা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। দমবন্ধ পরিবেশ থেকে বাঁচার জন্য শুরু হয় ছুটোছুটি। কিছপক্ষণের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করতে থাকে গোটা মারওয়ানি প্রার্থণা ঘরটিকেই।

জেরুসালেমের ওল্ড সিটির এই আল-আকসা ধর্মস্থানে প্রার্থনা করতে আসেন ইহুদি ও মুসলিমরা। ইহুদিদের কাছে আল-আকসা ‘টেম্পল মাউন্ট’ এবং মুসলিমদের কাছে এই ধর্মস্থান ‘নোবেল স্যাঙ্কচুয়ারি’ নামে পরিচিত। সপ্তম শতকে তৈরি প্রাচীন মার্বেল-পাথরে মোড়া এই ধর্মস্থান মুসলিম ও ইহুদি, দুই সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত পবিত্র। শুক্রবারের প্রার্থনায় যোগ দিতে পবিত্র এই ধর্মস্থানে আসেন হাজার হাজার মানুষ।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আল-আকসা মসজিদের মহাব্যবস্থাপক শেখ আজ্জাম আল-খতিব বলেন, কী কারণে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে ওই এলাকায় খেলতে থাকা শিশুদের মাধ্যমে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ আগুনের কারণে সেখানে অভ্যন্তরীণ কোনো ক্ষতি হয়নি। এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।

এ ঘটনার পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে এ স্থানটিকে বিশেষভাবে সংরক্ষণের দাবি করে বলেন, এ স্থাপনার ধর্মীয় ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি। তাই এ ধরনের ঘটনা থেকে একে রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদের বিপর্যয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে জেরুসালেমের মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে। সেই সময় মসজিদে উপস্থিত সব মানুষই সুরক্ষিত আছেন। তবে প্যারিসের ঘটনা খুবই ভয়াবহ ও দুঃখজনক। সেখানকার বন্ধুদের জন্য আমার সমবেদনা রইল।

বিডি২৪লাইভ/এসএএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: