প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নয়াপল্টনে রিজভী

‘ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা নুসরাতকে হত্যা করেছে’

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:২৮:০০

ছবি: নিজস্ব

যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, পত্র পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যন একরামকে যার নির্দেশে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সেই বিনা ভোটের এমপি’র লোকজন নিয়ে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে মামলা তোলার জন্য চাপ দিচ্ছে। এরপরেই নুসরাতের পরিবারকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী ধরিয়ে দিলেন একটি ব্যাংকের নিয়োগপত্র। জনমনে ধারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁচানোর সনদই হচ্ছে এই নিয়োগপত্র। যাতে করে পরিবারটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মামলার গতি বদল করা যায়।

তিনি বলেন, যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকার পুলিশ প্রশাসনের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে সরকার। কারণ মিডনাইট নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে এখন রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। এই সরকারের কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট হচ্ছে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। তারা জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য দোষীদের সাজা দেয়া হবে বলে অভিনয় করছে।

সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, দেশব্যাপী অনাচার, মারণযজ্ঞ বন্ধ করুন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, চারিদিকের নৈরাজ্যে মানুষ নৈশব্দের অন্তর্লীন পদযাত্রায় ব্যস্ত থাকবে না, তারা জেগে উঠবেই। জনগণের স্মৃতির পর্দা ঝাপসা নয়, একদিন জনগণই সকল অপরাধের বিচার করবে।

মধ্যরাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের লাশের ওপর দেশ চালাচ্ছেন। তাই কোন কিছুই এখন যেন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। দেশে চলছে এক চরম নৈরাজ্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বলেন রিজভী।

‘গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সূত্রবিহীন একটি খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, চার বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন, এমনকি তারা তারিখও বলে দিচ্ছেন! কিন্তু বাস্তবতা হলো-বিএনপির কোনো সূত্র এমন কিছুই জানে না। অথচ সরকারপন্থী কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রোপাগান্ডাগুলোর সাথে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে। দেশনেত্রী প্রচণ্ড অসুস্থ তা নিয়ে এই মিডিয়াগুলো নীরব। প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সাকসেসফুল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যন্ত। হাত-পা নাড়তে পারছেন না। আর্থ্রাইটিসের ব্যাথার কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। গতকালও চিকিৎসকরা বলেছেন তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এই অবস্থায় দেশনেত্রী চাচ্ছেন তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এই অবৈধ সরকার তার জীবন হুমকির মুখে ফেলে সুদুরপ্রসারী স্বার্থ সিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে বলেন রিজভী।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: