প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রার্থীদের ব্যয় প্রকাশে ইসির লুকোচুরি

১৯ এপ্রিল ২০১৯ , ০৮:৩৩:৪৮

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসেব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লুকোচুরি চলছে। গত ৩১ র্মাচ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকলেও এখন পর্যন্ত কয়টি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীর হিসাব জমা দিয়েছেন তা বলতে পারছেনা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, প্রার্থীদের হলফ নামার মত প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যায় নির্দিষ্ঠ সময়ের পর প্রকাশ করে ইসি। কিন্তু এবার প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যায় নিয়ে কেন লুকোচুরি করছে তা নিয়ে খোদ ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমলোচনা।

ইসির যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাশেম বলেন, ৩১ র্মাচের আগে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব বেশিরভাগ প্রার্থী জমা দেননি। তবে এখন অনেক গুলো দল ও প্রার্থীর ব্যয়ের তথ্য ইসিতে এসেছে। কিন্তু আমি এ তথ্য দিতে পারব না সমস্যা রয়েছে।

এবিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমদ খান বলেন, সংসদ নির্বাচনে রির্টানিং অফিসার ছিলেন তাদের থেকে তথ্য নিতে পারেন। রির্টানিং আফিসাররা জানিয়েছে তারা প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ইসিতে পাঠিয়েছে সেখান থেকে তথ্য নিতে হবে এমন প্রশ্নে ফরহাদ বলেন, দেখি কয়েকদিন পর প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে কিছু বলতে পারব।

নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব আতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের কাছে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে কোন তথ্য আসেনি। আর আসলেও আমি জানাতে পারব না। আপনি অন্য কোথাও খোজ নিতে পারেন।

সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব গত ৩১ মার্চ জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দলও সে সময় হিসাব না জমা দিয়ে ইসিকে বিদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়েছে। পরে কিছু দল তাদের প্রার্থীদের হিসাব জমা দিলেও সেটি নিয়ে ইসি লুকোচুরি করছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৪৪ সিসিসি ধারায় বলা আছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হবে।

এদিকে ৪৪ডি ধারায় বলা আছে, কোন দল ৯০ দিনের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে না পারলে ইসি তাদের সতর্ক করে নোটিশ দিয়ে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে যদি সময়ের মধ্য কোনো দল হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে ইসি তাদের ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। এরপরেও যদি কোনো দল এ ধাপেও হিসাব দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে ইসি।

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আইন অনুযায়ী এসব দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার সময়সীমা গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে।

সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইসি সচিবালয় থেকে দলগুলোকে হিসেবপত্র জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার ইসি সচিবালয় থেকে অংশ নেওয়া দলগুলোকে সে ধরনের কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, একটি কমিশন বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিষয়টি তাদের গোচরে আসে। যে কারণে ইসি সচিবালয় এখন দলগুলোকে ৩১ মার্চের পর হলেও তাগিদপত্র দিয়েছে।

আরপিওর ৪৪সি ধারা অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের নাম গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাববিবরণী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। একই সময়ে হিসাববিবরণীর একটি অনুলিপি সত্যায়িত করিয়ে ডাকযোগে (রেজিস্টার্ড) ইসিতে পাঠাতে হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম গেজেটে প্রকাশ হয়েছিল গত ১ জানুয়ারি। এই হিসেবে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ৩১ জানুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল। আর এই হিসাব বিবরণী ইসিতে যে তারিখেই এসে পৌঁছাক না কেন, তা ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ডাকঘরে গিয়ে রেজিস্টার্ড করতে হয়।

ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রার্থীদের অনেকই ব্যয়ের হিসাব ইসিতে পাঠিয়েছেন। তবে সেই প্রার্থী কারা এবং কতজন, সেই সংখ্যা তিনি জানাতে পারেননি। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের শেষেও প্রার্থীদের অনেকে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেননি। তবে ইসি এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আদালতে মামলা করেছিল।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজ প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আর রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারবে সাড়ে চার কোটি টাকা। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যেই প্রার্থী ও দলকে থাকতে হবে। অন্যথায় জেল-জরিমানা হতে পারে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সে দল সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারে। সর্বোচ্চ ১০০ প্রার্থীর জন্য দেড় কোটি টাকা করা যায়। সর্বোচ্চ ২০০ প্রার্থীর জন্য তিন কোটি টাকা এবং ২০০’র বেশি প্রার্থী দিলে সংশ্লিষ্ট দল সর্বোচ্চ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারবে।

এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারতেন। কারণ, এই তিনটি দলের প্রার্থী ছিল ২ শতাধিক, যথাক্রমে ২৫৮, ২৪২ ও ২৯০। আর জাতীয় পার্টি ব্যয় করতে পারবে তিন কোটি টাকা।

দলগুলো চাঁদা ও অনুদানসহ অন্যান্য খাত থেকে আয় করতে পারে। তবে নির্বাচনে ব্যয় করতে হয় নির্ধারিত খাতে। এগুলো হলো দলীয় প্রধানের ভ্রমণ, পোস্টার, প্রচার কাজের জন্য ব্যয়।

বিডি২৪লাইভ/এএইচ/এসএএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: