ক্রেতাদের অভিযোগ

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: প্রতিনিধি

রমজানের বাকি আর মাত্র দুই সপ্তাহ এর আগে নিত্যপণ্যের দামে আগুন লেগেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, রোজার আগেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম। গরু ও মুরগির মাংসের পাশাপাশি মাসের ব্যবধানে বেড়েছে পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি ও আলুসহ সবজির দাম। এসব নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবির) বাজার পর্যবেক্ষণেও। সংস্থাটি বলছে, এসব পণ্যের সঙ্গে সঙ্গে রসুন, আদাসহ বেশ কিছু মশলার দামও বেড়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান সামনে রেখেই বাড়ছে এসব নিত্যপণ্যের দাম। তাদের মতে, রোজার ইফতারিতে চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন, আলুসহ বেশ কিছু পণ্য বেশি ব্যবহার হয়। তাই আগে থেকেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ২৮ থেকে ৩২ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ থেকে ২৬ টাকা, আর এক মাস আগে ছিল ২২ থেকে ২৪ টাকা। অপরদিকে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৪ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ২০ থেকে ২২ এবং এক মাস আগে বিক্রি হয় ১৮ থেকে ২০ টাকায়। অপরদিকে কারওয়ান বাজারে পাইাকারিতে দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের পাল্লা বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এবার পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। নতুন পেঁয়াজ সাধারণত মজুদ করা কঠিন, তাই বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম কম ছিল। এখন সব পেঁয়াজ শুকিয়ে গেছে, ফলে বড় ব্যবসায়ীরা মজুতে চলে যাচ্ছেন। তাই দাম বাড়ছে। সামনে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে শ্যামবাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক ওয়াহিদ হাসান রনি বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। এর সিংহভাগই দেশি পেঁয়াজ। এজন্য ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কম থাকায় আমদানিও কম হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে দাম তার প্রায় অর্ধেক।

মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭৫ এবং লেয়ার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগেও ছিল যথাক্রমে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, তবে মাস তিনেক আগে ছিল যথাক্রমে ১২০ থেকে ১২৫ ও ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। এছাড়া প্রতিটি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের পাকিস্তানি বা কক ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা এবং একই ওজনের দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এক মাস আগেও এ দাম ছিল যথাক্রমে ২৩০ থেকে ২৫০ এবং ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।

ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কোষাধ্যক্ষ ডা. এসএমএফবি আবদুস সবুর বলেন, বাজারে যে দামে বিক্রি হয় তার অনেক কম দামে সব ধরনের মুরগি খামার পর্যায়ে বিক্রি হয়। এখানে বেশ কয়েক হাত বদল হয় বলেই দাম এতো বেড়ে যায়। সাধারণত ব্রয়লার মুরগিতে খামার পর্যায়ে এখনও প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নিলেও তা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

অপরদিকে বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বাজারভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। মাসখানেক আগেও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং খাসি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চাঁদাবাজিকে দায়ী করে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে গরু আনতে প্রতিটি গরুতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মতো বাড়তি খরচ করতে হয়। এর দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে সীমান্তের ওপারে। আবার বাকি সমস্যা হচ্ছে গাবতলী গরুর হাটে। হাটে তুলতে প্রতি গরুতে ১০০ টাকা দেওয়ার আইন থাকলেও গরু প্রতি ৩০০ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকাও নিচ্ছেন ইজারাদার। ইজারাদারের বাড়তি টাকা আদায় সম্পর্কে একাধিকবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অভিযোগ করেও সুফল পাওয়া যায়নি। বাড়তি টাকা ক্রেতাদের কাছ থেকেই আদায় হচ্ছে। তবে দাম বাড়ার কারণে গরুর মাংস বিক্রি অনেক কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ীই মাংস বিক্রি ছেড়েও দিচ্ছেন।

এদিকে রমজানে সাধারণত চিনির চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে পাইকারি ও খুচরায় বেড়েছে এ পণ্যটির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে ৫০ কেজির প্রতি বস্তার দাম প্রায় ১৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়; যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা।

এদিকে সবজির বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫ টাকা। পাইকারিতে প্রতি পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এবার আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সস্তায় বিক্রি হয়েছে। আস্তে আস্তে আলু মজুদের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ কমছে। ফলে দামও বাড়ছে।

অপরদিকে অন্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৫৫, করলা ৬০ থেকে ৬৫, পটোল, চিচিঙা, ঢ্যাঁড়স, লতি ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ৫৫ থেকে ৬৫, ঝিঙা ৭০, শিম ৪০, শসা ৩০ থেকে ৪০, মুলা ২৫ থেকে ৩০, গাজর ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৬০ টাকা, এক পোয়া ১৫ থেকে ১৮ টাকা। মুদি পণ্যের মধ্যে খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট আটা ৩২, চিনি আমদানিকৃত ৫০, প্যাকেট লবণ ৩৪ থেকে ৩৫, দেশি ছোট মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১০০, আমদানি করা ছোট ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তেলের মধ্যে খোলা পামঅয়েল ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা, সয়াবিন ৯০, পাঁচ লিটারের বোতল রূপচাঁদা ৫০০, পুষ্টি ৪৭০, তীর ৪৯০ এবং ফ্রেশ ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিডি২৪লাইভ/এএইচ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: