স্কুলছাত্রীকে নিয়ে ইমাম উধাও!

২৪ এপ্রিল ২০১৯ , ১২:৩০:২৫

ছবি: প্রতীকী

নোয়াখালী সুবর্ণচরে পূর্ণিমা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে পেলে পালিয়ে গেলেন ৩ সন্তানদের জনক মসজিদের ঈমাম নুরুল আলম। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সুবর্ণচর উপজেলার ৪নং চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের হাজী দুদা মিয়া জামে ঈমাম, আল আমিন বাজার মাদ্রাসার শিক্ষক, আন্ডার চর ইউনিয়নের জাকির মিকারের বাড়ীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে নুর আলম (৩৮) গত ২১ এপ্রিল শবে বরাতের রাতে চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের মো. ফারুকের মেয়ে স্থানীয় সুবর্ণচর গার্লস স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্নিমা আক্তার (১৪) কে প্রেমের ফাঁদে পেলে অজানার উদ্দ্যেশ্য পাড়ি জমায়। সে থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মেয়ের বাবা মো. ফারুক চরজব্বর থানায় এবিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ব্যাপারে পূর্ণিমার বাবা ফারুকের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে মেয়ে হারানো গেছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, এবং তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন, নুর আলম তার মেয়েকে কোর্টের মাধ্যমে বিয়েও করেছেন। বিবাহের উপযুক্ত না হতেই কিভাবে বিয়ে করলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মেয়ে দেখতে শুনতে বড় হয়ে গেছে, এর চেয়েও ছোট মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে। পরে তিনি ফোন কেটে দেন।  এদিকে নুর আলম হুজুরের বর্তমান স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী রাহেলা (ছদ্মনাম) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সে সমাজের ইমাম ছিল, সে এমন কাজ করবে আমি ভাবতেও পারিনে, কিছুদিন যাবৎ তার এমন কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে সে আমাকে প্রায় মারধর করে, এবং এসব বিষয়ে প্রায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো, আমার বাবাও একজন আলেম এবং একটি মসজিদের ইমাম। আমি মানসম্মানের ভয়ে মুখ খুলিনি।

বর্তমানে পূর্ণিমার পরিবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি নুরল আলমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরো বলেন, আমার ৬ বছর বয়সী এক সন্তান মারা গেছে বর্তমানে ৪ বছর বয়সের সিয়াম নামের আরেক সন্তান বড় হচ্ছে এবং ৩ মাসের অনাগত সন্তান আমার পেটে এই অবস্থায় আমি কোথাই যাবো কি করবো বুঝতে পারছি না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, মেয়ের বাবা একটি জিডি করেছেন, নুরুল আলমকে আসামি করে অভিযোগ করলে আমি দ্রুত আইনি ব্যাবস্থা নিবো। এলাকাবাসী জানান, নুরুল আলম এর আগেও একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করেছে, মসজিদের ইমাম ছিলো তাই আমরা ভালো মনে করে কোন প্রতিবাদ করিনি। নুরুল আলমের পৈত্রিক বাড়ী নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডরচর ইউনিয়নে। সে দীর্ঘ বছর ধরে পূর্ব চরজব্বর গ্রামে থাকে এবং সে এলাকায় তাবিজ কবজের ব্যবসা করতো। নুরুল আমিনের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। চরজব্বর থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মোবাইল ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। লোকেশন পাওয়া গেলে মেয়েটিকে উদ্ধার ও তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। সূত্র: মানবজমিন।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: