প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্ট

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে নির্মাণ শ্রমিক

২৪ এপ্রিল ২০১৯ , ০৪:১৫:০০

ছবি: প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্টের সাউথ প্যাডের ওয়্যার হাউজে কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত শ্রমিক বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে। সে অচেতন অবস্থায় দীর্ঘ ১৫দিন যাবত বিচানায় শয্যাসায়ী রয়েছে। রডের আঘাতে শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে যাওয়ায় তাকে নিয়ে অসহায় পরিবারের লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে নিয়ে যেতে পারছেন না।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিনাম কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসার দায়ভার নিবে বলে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন নি। এ নিয়ে আহত শ্রমিকের পরিবারে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। 

এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন গত ২২ এপ্রিল সন্ধায় কোম্পানী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পরদিন চিকিৎসায় নিয়ে যাওয়া কথা হলেও পরের দিন আর খোঁজ নেয়নি। স্থানীয় এক ভেন্ডরের মাধ্যমে চিকিৎসা জন্য কথা বললেও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আহত শ্রমিকের পরিবার কোম্পানীর কোন কর্মকর্তাকে আশার অনুরোধ করলেও তারা কেউ আসেনি।

উল্লেখ্য যে, গত ৮ এপ্রিল সোমবার বিকালে উপজেলার ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্টে ইসলামপুর গ্রামের হতদরিদ্র মনোহর মিয়ার ছেলে সামী ওরফে রুহুল (১৮) বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্টের সাউথ প্যাডের ওয়্যার হাউজে কাজ করার সময় রডের বাড়িতে গুরুতর আহত হয়।

আশংকাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসাপাতে ভর্তি করা হয়। ৮ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডাক্তার সিট কেটে দিলে টাকা অভাবে তার আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এরপর থেকে আহত সামির শয্যাসায়ী অবস্থায় বাড়িতে পড়ে রয়েছে। টাকার অভাবে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারছেন না। আহত শ্রমিকের পিতা মনোহর মিয়া সমাজপতি, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের নিয়ে বার বার কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।

শুধু আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি নিয়ে সামিট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আহত শ্রমিকের চিকিৎসার কথা জানালে সামিট কর্তৃপক্ষ নানান তালবাহানা করতে থাকে।

কোম্পানীর কোন কর্মকর্তা আমার সাথে যোগাযোগ না করে তারা দালালদের মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমি তাদেরকে বলেছি, কোম্পানীর নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তারা এসে আহত শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে।

এ ব্যাপারে সিনামের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান ফারুক এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী বাপ্পী জানান, কাজ চলাকালীন সময়ে শ্রমিক আহত হওয়ার সাথে সাথে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এর চেয়ে কোম্পানীর আর কিছু করার নেই।

সিনাম কোম্পানী ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার মোঃ ওমর ফারুক জানান, দূর্ঘটনার খবর পেয়েছি, শ্রমিক কাজ করে সমস্যায় পড়েছে না অন্য কোনভাবে অসুখ হয়েছে তা মেডিকেলে পাঠিয়ে নির্নয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করব। আমরা আপনাদের মাধ্যমে খবর জেনেছি। এর আগে আমাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিছু জানায়নি। আমরা আজ (বুধবার) তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছি।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান জানান, আমি খবর পেয়ে কোম্পানীকে নির্দেশ দিয়েছি আজকে (বুধবার)-এর মধ্যেই উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে। সে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তার সম্পূর্ণ ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: